বিএনপি নেতাদের হাতে হারিকেন ধরিয়ে দিতে হবে: শেখ হাসিনা
-
শেখ হাসিনা
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংরক্ষণে সরকারের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে হারিকেন নিয়ে আন্দোলন করায় বিএনপি নেতাদের কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ (সোমবার) সকালে শোকাবহ আগস্টের প্রথম দিনে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কৃষক লীগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে শেখ হাসিনা বলেন, 'আমি দেখেছি আমাদের বিএনপি নেতারা হারিকেন নিয়ে আন্দোলন করছে। তো তাদের হাতে হারিকেনই ধরিয়ে দিতে হবে, তাদের সবার হাতে হারিকেন ধরিয়ে দেন। আর দেশের মানুষকে আমরা নিরাপত্তা দেব এবং দেশের মানুষ যাতে ভালো থাকে সেই ব্যবস্থা নেব।'
সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসা সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া দল বিএনপির নেতাকর্মীদের মুখে এখন নির্বাচন নিয়ে ‘নীতি কথা শুনতে হচ্ছে’ বলে হতাশা প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
বিএনপির আমলে দেশের মানুষের ভোট দেওয়ার ‘অধিকারটাই ছিল না’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “দুর্ভাগ্য হল, একটা মিলিটারি ডিক্টেটর অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতায় থেকে যে দল গঠন করেছিল ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে, তাদের কাছে এখন নানা রকম নীতির কথা শুনতে হয়।"
২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটের জয়ের প্রসঙ্গ ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সেই নির্বাচন কি নির্বাচন হয়েছিল? সেখানে কি কোন মানুষ ভোট দিতে যেতে পেরেছে? সমস্ত বাংলাদেশে আর্মি ডিপ্লয় করা হয়েছে। সেখানে কি সিল মারা বলে? এরা তো প্রকাশ্যে সিল মারতো।
“এখানে রাতের ভোট না, একেকটা বাসে করে যাবে বিএনপির সন্ত্রাসীরা, একেকটা বুথে ঢুকবে, সিল মারবে, বাক্স ভরবে, আর চলে আসবে। আর সেটা না পারলে সোজা ঘোষণা “
১৯৯৪ সালের মাগুরা-২ আসনের উপনির্বাচন এবং অন্য ‘বিতর্কিত’ নির্বাচনগুলোর উদাহরণ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “এসব নির্বাচন তো মানুষের চোখে দেখা। কোনো মানুষ তো ভোট দিতে পারেনি। ভোট দেওয়ার অধিকারটাই মানুষের ছিল না বিএনপির আমলে।”
বিএনপির শাসনামলের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “দেশকে খাদ্য ঘাটতিতে রেখে মানুষকে ভিক্ষুক জাতি হিসেবে বিশ্বে পরিচয় করানো এবং ভিক্ষা চেয়ে নিয়ে আসা।… এই খাদ্য কিনবে, ব্যবসা করবে এবং কমিশন খাবে এটাই ছিল বিএনপির নীতি।”
বিএনপির সময়ে দশ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধারের প্রসঙ্গ ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটা তো বিএনপির এক নেতারই বক্তব্যে আছে। গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে এই সমস্ত কাজ করানো হতো। সেই দশ ট্রাক অস্ত্র ধরা পড়েছে। একটা চালান ধরা পড়েছে। এই রকম কতো চালান এই দেশে এসেছে আর গিয়েছে।”
সে সময় দেশকে সম্পূর্ণ ‘পরনির্ভরশীল’ করে দেশের মানুষের নিরাপত্তা ‘সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস’ করে ফেলা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা ‘মানি লন্ডারিংয়ের জড়িত’ এবং তাদের পাচার করা টাকা ‘দেশে ফেরত আনা হয়েছে’ বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।