নাটোরে ছাত্রকে বিয়ে করা সেই শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার, স্বামী আটক
-
খাইরুন নাহার ও মামুন হোসেন
বাংলাদেশের নাটোর জেলার গুরুদাসপুরে ছাত্রকে বিয়ে করা কলেজ শিক্ষিকা খাইরুন নাহারের (৪০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ (রোববার) সকালে নাটোর শহরের বলারিপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নাহারের কলেজছাত্র স্বামী মামুন হোসেনকে আটক করে রেখেছে পুলিশ।
নাটোর সদর থানার কর্মকর্তা (ওসি) নাসিম আহমেদ জানিয়েছেন, আজ সকাল ৭টার দিকে শহরের বলারিপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিয়ে তারা তদন্ত শুরু করেছেন। সংশ্লিষ্ট অন্য বাহিনীর সদস্যরাও তদন্ত করবে। তদন্ত ও লাশের ময়নাতদন্ত হলে এটা হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে হত্যা আর আত্মহত্যা যাই হোক না কেন এমনটা ঘটলো তা পুলিশ খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছে।
নাটোর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর পরিদর্শক শাহাদাত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া মামুনকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত তিনটার দিকে মামুন প্রতিবেশীদের ডেকে আনেন যে, তার স্ত্রী খায়রুন নাহার গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। প্রতিবেশীরা তার ঘরে গিয়ে দেখতে পায় খায়রুন নাহরের নিথর দেহ ঘরের মেঝেতে শোয়ানো। এতে তাদের সন্দেহ হলে মামুনকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয় তারা।
শিক্ষিকা মোছা. খাইরুন নাহার গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় পৌর এলাকার মো. খয়ের উদ্দিনের মেয়ে এবং উপজেলার খুবজীপুর এম হক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন।
ছয় মাস আগে তিনি তার ছাত্র মামুন হোসেনকে (২২) বিয়ে করেছিলেন। গত ৩১ জুলাই তাদের বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হলে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় বিয়ের খবরটি ভাইরাল হয়। এতে সারা বাংলাদেশে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর এম হক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোছা. খাইরুন নাহার। তার রাজশাহীর বাঘায় প্রথম বিয়ে হয়েছিল। পারিবারিক কলহে সংসার বেশি দিন টেকেনি তার। তবে ওই ঘরে একটি সন্তান রয়েছে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ২০২১ সালের ২৪ জুন তাদের পরিচয় হয় মামুন হোসেনের সঙ্গে। এরপর থেকে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। একপর্যায়ে ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বরে বিবাহবন্ধনে আবন্ধ হন তারা।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৪