ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা ও প্রাণহানি-দায় কার: বিশ্লেষকমহলের প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশে ব্যাপক সহিংসতা, শতাধিক প্রাণহানি আর পাঁচ হাজারের বেশি মানুষের আহত হওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন।
মোট ছয় পর্বের ভোট গ্রহণ শেষে হার-জিতের হিসাব-নিকাশের চেয়েও জরুরি হয়ে দেখা দিল প্রাণহানির প্রশ্ন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ’র আগে কখনো এত বেশিসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি হয় নি।
তবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ দাবি করেছেন, সরকারবিরোধী ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রসহ বিভিন্ন কারণে সংঘটিত সহিংসতাকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সহিংসতা হিসেবে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে।
রোববার বিকেলে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলির সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হানিফ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সহিংসতা কিন্তু জিয়াউর রহমানের সরকারসহ অন্যান্য সরকারের সময়েও হয়েছে। এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সবগুলো সহিংসতাই কিন্তু রাজনৈতিক নয়। এগুলো পারিবারিক, ব্যক্তিগতসহ বিভিন্ন কারণে সংঘটিত হয়েছে। অনেকে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। তারপরও তাদের মৃত্যু নির্বাচনি সহিংসতায় জড়িয়ে ফেলে সংখ্যা বৃদ্ধি করার চেষ্টা হয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে বিএনপি-জামায়াতের সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিক সহিংস কর্মকাণ্ড।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে হানিফ আরও বলেন, অনেকেই ইউপি নির্বাচনে নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধি করে সরকারকে বিব্রত করার কৌশল হিসেবে এটাকে গ্রহণ করার কথা ভাবছেন। বিএনপি শুধুমাত্র সরকারের উপর এ দায় চাপিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। কিন্তু এ সহিংসতার ঘটনাগুলো বিএনপির ধারাবাহিক সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ।
হানিফ ব্যাখ্যা করে বলেন, বিএনপি-জামায়াত ২০১৩ থেকে ১৫ সাল পর্যন্ত সরকার উৎখাতের নামে যে ধরনের নৈরাজ্য করেছে, এগুলোর প্রতিফলনেই ইউপি নির্বাচনে বিচ্ছিন্ন সহিংসতা হয়েছে। বিএনপি শুরু থেকেই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এ নির্বাচন ও নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পথ বেছে নিয়েছে।
বিএনপি যদি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতো তাহলে এ ধরনের সহিংস ঘটনা কমে যেতো। এখন নির্বাচনের সহিংসতা নিয়ে বিএনপির কথা বলার নৈতিক অধিকার নেই।
এবারের নির্বাচনি সহিংসতা প্রসঙ্গে নির্বাচন পর্যবেক্ষনকারীদের মোর্চা ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের পরিচালক জনাব আবদুল আলিম রেডিও তেহরানকে বলেন, দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে যারার কারণে রেকর্ড পরিমাণ সহিংসতা ঘটেছে যা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে নির্বাচন কমিশন।
তিনি মনে করেন এ ক্ষেত্রে নির্বাচনি আইনেরও সংস্কার দরকার যাতে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব আরো সুনির্দিষ্ট করে দেয়া হয়।
ওদিকে এবারের নির্বাচনি সহিংসতার মাঝে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট রাণা দাশগুপ্ত বলেন এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগও তাদের বিদ্রোহীদের মধ্যে মূল প্রতিযোগিতা হয়েছে। এ কারণে সহিংসতাও বেশি হয়েছে এবং তাই সংখ্যালঘুরা বেশি আক্রান্ত হয়েছে।
নজিরবিহীন রক্তপাতের নির্বাচন হিসেবে ইতিহাসে স্থান পেল যে নির্বাচন, তার সুষ্ঠুতা, নিরপেক্ষতাসহ যাবতীয় নিয়মানুবর্তিতার প্রশ্ন তোলা অর্থহীন।
তবে স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের মর্যাদা গ্রহণযোগ্যতা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলো এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। বেসরকারি সংস্থা ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’ যথার্থই মন্তব্য করেছে যে, প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশন ভেঙে পড়েছে।#
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/গাজী আবদুর রশীদ/৬