খুলনায় বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ শুরু, বাধা দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার সরকারের
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i114834-খুলনায়_বিএনপির_বিভাগীয়_গণসমাবেশ_শুরু_বাধা_দেয়ার_অভিযোগ_অস্বীকার_সরকারের
বাস-লঞ্চ বন্ধ  করে দিয়ে  পথে পথে সরকারী দল এবং পুলিশের  নানা বাধা পেরিয়ে খুলনার সমাবেশস্থলে জড়ো হয়েছেন বিভাগের বিভিন্ন জেলার বিএনপির নেতা-কর্মীরা। খুলনা মহানগরের ডাকবাংলো ও ফেরিঘাট মোড়ের মাঝামাঝি সোনালী ব্যাংক চত্বরে আজ শনিবার দুপুর ১টার দিকে শুরু হয় খুলনায় বিএনপির বিভাগীয়  গণসমাবেশ। 
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
অক্টোবর ২২, ২০২২ ১৭:৪৬ Asia/Dhaka
  • খুলনায় বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ শুরু, বাধা দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার সরকারের

বাস-লঞ্চ বন্ধ  করে দিয়ে  পথে পথে সরকারী দল এবং পুলিশের  নানা বাধা পেরিয়ে খুলনার সমাবেশস্থলে জড়ো হয়েছেন বিভাগের বিভিন্ন জেলার বিএনপির নেতা-কর্মীরা। খুলনা মহানগরের ডাকবাংলো ও ফেরিঘাট মোড়ের মাঝামাঝি সোনালী ব্যাংক চত্বরে আজ শনিবার দুপুর ১টার দিকে শুরু হয় খুলনায় বিএনপির বিভাগীয়  গণসমাবেশ। 

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা  জিয়ার মুক্তি এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি সহ দলীয় কর্মীদের  হত্যা, হামলা ও মামলার  প্রতিবাদে  খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশ আয়োজন করা হয়। 

সমাবেশের প্রধান অতিথি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল রাত সাড়ে নয়টার দিকে সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেন। এরপরই ডাকবাংলো এলাকার সোনালী ব্যাংক চত্বরে সমাবেশ মঞ্চ নির্মাণের কাজ শুরু হয়।  মধ্যরাত রাত থেকেই  পূর্ণ হয়ে যায়  বিএনপির সমাবেশস্থলের আশপাশের জায়গা। সভাস্থল  সোনালী ব্যাংক চত্বর থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে শিববাড়ি মোড় পর্যন্ত নেতা-কর্মীরা অবস্থান গ্রহণ করে। সকাল থেকেই খুলনা রেলস্টেশন, স্টেশন রোড, কেডি ঘোষ রোড, পিকচার প্যালেস মোড়, ডাকবাংলো মোড়, ফেরিঘাট মোড় সর্বত্রই  লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়।  

বিএনপির খুলনা বিভাগীয় গণসমাবেশে লোকসমাগম ঠেকাতে সরকার শত বাধা ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেও সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের  শীর্ষ  নেতারা  তারা  বলেছেন, আজকের এ গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে সরকার খুলনাকে সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে মূলত জনগণ থেকে আওয়ামী লীগকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। শত বাধা, হামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানি মোকাবিলা করে গণসমাবেশে লাখ লাখ লোকের সমাগম প্রমাণ করেছে, সরকারের পায়ের তলার মাটি সরে গেছে।

এর আগে শুক্রবার সকাল ছয়টা থেকে খুলনায় দুই দিনের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়। এ ছাড়া,  বিএনপি’র    সমাবেশকে  বাধাগ্রস্ত করতে গত কাল  থেকেই  খুলনাগামী বিভিন্ন সড়কে বং  নগরের বিভিন্ন প্রবেশদ্বারে  অবস্থান নিয়ে শক্তি প্রদর্শন করে  আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা। কোনো কোনো এলাকায় সশস্ত্র মহড়া দিতে দেখা গেছে তাঁদের। এ সময় বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের মারধর করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে  সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বিএনপির কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার যেসব কথা বলা হচ্ছে, সেটি সঠিক নয়। তারা যথেষ্ট পরিমাণ লোকজন নিয়ে প্রতিটা মিটিং করছে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপির কাউকে আটক কিংবা গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না বলেও দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। আজ শনিবার রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে  বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এ ছাড়া , আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, লাশ ফেলে সরকারবিরোধী আন্দোলন জমাতে চায় বিএনপি। সরকার বিএনপির এ ফাঁদে পা দেবে না।

আজ শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন,  ‘সমাবেশকে কেন্দ্র করে কেউ নিহত হলে সরকার কোনো দায় নেবে না। নৈরাজ্য সৃষ্টির যেকোনো উদ্যোগ প্রতিহত করা হবে।

অন্যদিকে  বিএনপির সমাবেশে আগত ব্যক্তিদের বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বেলা ১২টার দিকে খুলনা রেলস্টেশন এলাকায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সাথে পুলিশের বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ  করে। এ সময় বিএনপির নেতা-কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাল্টা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং স্টেশনের জানালা-দরজার কাঁচ ভাংচুর করেন। । প্রায় আধঘণ্টা পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।

ভোগান্তিতে পড়া মানুষের অভিযোগ, সমাবেশ করছে বিএনপি আর কষ্ট পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষের। সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে কষ্ট করতে হচ্ছে খুলনাবাসী । #