নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উপাদান দেখা যায়নি: টিআইবি
https://parstoday.ir/bn/news/event-i157088-নির্বাচন_অংশগ্রহণমূলক_ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের_উপাদান_দেখা_যায়নি_টিআইবি
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য মাত্রায় অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেছেন, এই নির্বাচনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’–এর কোনো উপাদান দেখা যায়নি। টিআইবির দৃষ্টিতে মোটামুটিভাবে গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়েছে।
(last modified 2026-02-16T11:42:42+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ ১৭:৩৮ Asia/Dhaka
  • ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি)
    ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি)

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য মাত্রায় অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেছেন, এই নির্বাচনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’–এর কোনো উপাদান দেখা যায়নি। টিআইবির দৃষ্টিতে মোটামুটিভাবে গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়েছে।

আজ (সোমবার) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির টিআইবি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইফতেখারুজ্জামান এ কথা বলেন। ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে টিআইবি। 

আওয়ামী লীগকে ছাড়া নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা স্থানীয় পর্যায়ে অন্য দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশ ছিল। তাই ফ্যাক্টের ওপর ভিত্তি করেই বলা হয়েছে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য মাত্রায় অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির পক্ষ থেকে নির্বাচনের সামগ্রিক বিষয় জানাতে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে প্রতিনিধিত্বশীল নমুনায়ন পদ্ধতি ব্যবহার করে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ৭০টি আসন বেছে নিয়ে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে টিআইবি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ৯৯ শতাংশ প্রার্থীই ৫৮টি আচরণবিধির কোনো না কোনোটি লঙ্ঘন করেছেন। নির্বাচনের দিনেও কেন্দ্রগুলোয় স্বতন্ত্র নারী প্রার্থীর ওপর হামলা, কেন্দ্রের বাইরে ভয়ভীতি প্রদর্শন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া, কিছু কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্টদের ঢুকতে না দেওয়া, বানোয়াট নিয়মের অজুহাতে ভোটারদের হেনস্তা করা, একজনের ভোট অন্যজন প্রদান, ভোটের সময় টাকা বিতরণের মতো ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া ভোটার তালিকার সঙ্গে নাম ও ছবি না মেলায় অনেক ভোটার কেন্দ্রে গেলেও ভোট দিতে পারেননি।

নির্বাচন–পরবর্তী সহিংসতার বিষয়ে টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ৭০ আসনে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ৪৫টি, প্রতিপক্ষের ভোটার–কর্মী–সমর্থকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে ৩৪টি, বাড়িঘর–অফিসে হামলা হয়েছে ১৮টি, একই দলের বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ১৬টি।

টিআইবির প্রতিবেদনে সার্বিক পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, শুরুতে তুলনামূলক সুস্থ প্রতিযোগিতার লক্ষণ দেখা গেলেও ক্রমান্বয়ে রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীরা সহিংসতাপূর্ণ নির্বাচনি কার্যক্রমের পুরাতন রাজনৈতিক চর্চা বজায় রেখেছে। ফলে নির্বাচনে দল ও জোটের মধ্যে সংঘাত, আন্তদলীয় কোন্দল, ক্ষমতার জন্য অসুস্থ প্রতিযোগিতা এবং সহিংসতা ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও অব্যাহত ছিল।

টিআইবির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭০টি আসনের মধ্যে ২১ দশমিক ৪ শতাংশ আসনে এক বা একাধিক জাল ভোট দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিবেদন তৈরির সঙ্গে যুক্ত টিআইবির জেষ্ঠ্য গবেষণা ফেলো মো. মাহফুজুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত আসনে একটাও ঘটনা হলে সেটা রেকর্ড করা হয়েছে। এটা আসনের পার্সেন্টেজ, ভোটের পার্সেন্টেজ না।#

পার্সটুডে/জিএআর/১৬