বাংলাদেশের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ও রাজনীতি
অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ আর জোটের সমীকরণে ব্যস্ত রাজনৈতিক দলগুলো
বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠে শুরু হয়েছে নির্বাচনের ডামাডোল। ২০২৪ সালের অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদের দ্বাদশ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন বেশ উত্তপ্ত ছিল। বিশেষ করে ২০২২ সালের শেষের দিকে বিরোধী রাজনৈতিক জোটের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং তৎপরবর্তী ১০ ডিসেম্বরে ঢাকার মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে এক ধরনের উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছিল।
দেশের জনগণের মধ্যে ১০ই ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছিল পরবর্তীতে যা প্রশমিত হয়েছে কারণ মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে এমন কোনো ঘটনা দেশে ঘটে নিয়ে যা রাজনীতির গতি প্রকৃতিকে পাল্টে দিতে পারে। তবে এখন দেশের ক্ষমতাসীন সরকারি দল ও বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মাঠ পর্যায়ে চলছে নানা সমীকরণ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী নির্বাচনে মূলত দুই ভাগে বিভক্ত হবে জোট রাজনীতি। একদিকে থাকবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সরকারদলীয় জোট। অন্যদিকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারবিরোধী আরেকটি জোট। ছোট ছোট দলগুলোও ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ নেবে। যাদের পাল্লা ভারী থাকবে তাদের সঙ্গেই জোট বাঁধবে। অন্য জোট হলেও কার্যত কিছুই হবে না।
এ প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব মনে করেন, সরকারি দলের কিছু অতি উৎসাহী নেতাকর্মী ও প্রশাসনের কিছু অতি উৎসাহী কর্মকর্তাদের কারণে সংকট বাড়ছে। তবে তার মতে দেশের জনগণের স্বার্থের বাইরে বিএনপির কোন দাবি নেই। তারা জনদাবিকে বাস্তবায়নের জন্য মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন।
এদিকে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান মনে করেন, বিএনপির ১০ ডিসেম্বরের রাজনৈতিক কর্মসূচিকে সরকারের তরফ থেকে বেশ শক্তভাবেই সামাল দেয়া হয়েছে। সার্বিকভাবে রাজনীতির প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ মানুষের দাবি পূরণে সফল বলে দাবি করেন এ তরুণ নেতা।
তবে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে যে সংকট তৈরি হয়েছে তা অতিসত্বর সমাধান জরুরি বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। নইলে স্থানীয় সংকট জাতীয় রাজনীতিতে কোন বিরুপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে শংকা তাদের।#
পার্সটুডে/নিলয় রহমান/আশরাফুর রহমান/১৯