পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দলীয় প্রধানদের সিদ্ধান্ত নেয়ার আহবান বিশ্লেষকদের
বিএনপির পদযাত্রা আর আওয়ামীলীগের শান্তি সমাবেশে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘাত সংঘর্ষ
গেল ২০২২ সালের শেষ দিক থেকেই মূলত বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হতে শুরু করে। ১০ ডিসেম্বর বিএনপির কর্মসূচির পরে পরিস্থিতি কিছু শান্ত হলেও বিএনপি যখন আবার বিভাগীয় জেলা পর্যায়ে এবং রাজধানীতে পদযাত্রা কমসূচি দিতে শুরু করে তখনই পরিস্থিতি আবারো নড়বড়ে হতে শুরু করে।
ক্ষমতাসীন সরকারের নেতাকর্মীদের অভিযোগ বিএনপি আন্দোলনের নামে মাঠে সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে। তাই তারা বিভিন্ন কর্মসূচির সময়েই শান্তি সমাবেশ নামে কর্মসূচি পালন করছে। এবার ঢাকার বাইরে আজ শনিবার সারা দেশ ব্যাপী বিএনপির ইউনিয়ন পদযাত্রা কর্মসূচি ছিল। সেখানে কর্মসূচি উপলক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে হামলা ও বাধা দেয়ার অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থানীয় নেতারা। অপর দিকে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরাও বলছেন, তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা।
এদিকে, সিরাজগঞ্জে বিএনপি’র পদযাত্রা ও আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশকে কেন্দ্র করে দুটি দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। এ সময় অন্তত ১২টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এছাড়া বেশ কয়েকটি দোকানপাট ও বসতবাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটেছে
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এই হামলার জন্য বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একে অপরকে দায়ী করেছেন।
সংঘর্ষের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে সিরাজগঞ্জ ২ (সদর ও কামারখন্দ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না বলেন, বিএনপির লোকজন আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের ১২টি মোটর সাইকেল ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। বিএনপি পদযাত্রার নামে সন্ত্রাস যাত্রা শুরু করেছে।
এবিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিশ্বাস করে। বিএনপির কর্মসূচি পূর্বঘোষিত। বিএনপির পদযাত্রায় বাধা দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ শান্তি সমাবেশের নামে অশান্তি তৈরি করছে।
ঝালকাঠিতে বিএনপির ইউনিয়ন পর্যায়ে গণপদযাত্রায় পুলিশের বাধা ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ হামলার অভিযোগ আসছে।
এমন পরিস্থিতিকে রাজনীতির জন্য অশনি সংকেত বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক। তিনি বলেন, দেশের প্রধানদুই রাজনৈতিক দল এভাবে একই দিনে রাজনৈতিক কর্মসূচি করলে তাতে সংঘাত সংঘর্ষ অনিবার্য। কারন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনো পেশী শক্তি প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা বিদ্যমান। তাই দলীয় প্রধানদের সংঘাত সংঘর্ষমুক্ত রাজনীতির জন্য সিদ্ধান্ত নেয়ার সময়েছে বলেই মনে করেন ড. তৌহিদুল হক। #
পার্সটুডে/বাদশাহ রহমান/বাবুল আখতার/১১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।