সম্প্রীতিতে সম্পর্কোন্নয়ন চায় বিশেষজ্ঞরা
ঢাকায় কূটনীতিকদের বাড়তি নিরাপত্তা প্রত্যাহার ও মার্কিন প্রতিক্রিয়া
-
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন
বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের বাড়তি নিরাপত্তা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়ে দেশের রাজনৈতিক মহল তো বটেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে নানা আলোচনা।
সোমবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গণমাধ্যমকে বলেছেন, ঢাকায় কোনো বিদেশি কূটনীতিককে অতিরিক্ত নিরাপত্তা সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে সরকার বৈষম্য করতে চায় না, তবে অর্থের বিনিময়ে তারা এ ধরনের সুবিধা পেতে পারে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ পাঁচ-ছয়টি দেশের রাষ্ট্রদূত এ ধরনের অতিরিক্ত নিরাপত্তা সেবা পেতেন, যা প্রত্যাহার করেছে সরকার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন জানান, বর্তমানে এটি চালু রাখা সরকারের জন্য কঠিন হয়ে যাচ্ছে। নিয়মিত নিরাপত্তা সেবা চালু থাকায় সরকার জনগণের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে রাজি নয় বলেও জানান তিনি। আর এই মন্তব্যের পরেই শুরু হয় আলোচনা। বাড়তি তথ্য যোগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তিনি গতকাল সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, রাষ্ট্রদূতদের বাড়তি পুলিশি নিরাপত্তা প্রত্যাহারে বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য নেই। শুধু রাষ্ট্রদূতদের নয়, মন্ত্রীদের প্রটোকল থেকেও পুলিশি নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। আনসার নিয়ে গঠিত নতুন আর্মড রেজিমেন্ট দিয়ে নিরাপত্তা দেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্র-প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বিষয়টির ব্যাখ্যা করে গণমাধ্যমকে বলেছেন, নিরাপত্তা সরিয়ে নেয়া নয়, বাড়তি এসকর্ট সুবিধা বাতিল করা হয়েছে মাত্র। যদিও ততক্ষণে বিষয়টির আলোচনার পরিধি গড়ায় আন্তর্জাতিক মহলেও।
বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে। উত্তর দেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের উপপ্রধান মুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেল। তিনি বলেছেন, কূটনীতিকদের সুরক্ষা ইস্যুতে ভিয়েনা কনভেনশন মনে রাখার পাশাপাশি মার্কিন কূটনৈতিক মিশন ও কর্মীদের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা স্বাগতিক দেশ অবশ্যই অবগত। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে ব্রিফিংয়ের বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।
এবিষয়ে ঢাকায় আজও রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা আলোচনা। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফরে হয়ত পর্যাপ্ত প্রটোকল সুবিধা না পাওয়ায় এটি করেছে সরকার। অপরদিকে আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে জনগণের সিদ্ধান্তই মুখ্য, বিদেশীরা কোন ফ্যাক্ট না।
তবে কূটনৈতিকদের বাড়তি নিরাপত্তা সরিয়ে নেয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাবেক রাষ্ট্রদূত এস এম রাশেদ আহমেদ চৌধুরী বলেছেন, এটা এভাবে ফলাও করে প্রচারের বিষয় নয়। কোন পরিস্থিতির কারণে বাড়িত নিরাপত্তা সুবিধা পরিহার করার বিষয়টি পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে দূতাবাসকে জানালেই হত। কারণ এগুলো হল সম্পর্কের বিষয়। কূটনীতি কখনো বিরোধের নয় সম্প্রীতির সম্পর্কে এগোয় #
পার্সটুডে/বাদশা রহমান/১৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।