গাজীপুরের নতুন মেয়র জায়েদা খাতুন, সরকারের জন্য বড় মেসেজ : বিশ্লেষকদের মন্তব্য
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i123626-গাজীপুরের_নতুন_মেয়র_জায়েদা_খাতুন_সরকারের_জন্য_বড়_মেসেজ_বিশ্লেষকদের_মন্তব্য
বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠে তো বটেই, সর্বত্র এখন আলোচনার কেন্দ্রে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে নতুন নির্বাচিত মেয়রের প্রসঙ্গ। কারন বিজয়ী প্রার্থীর নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কোনো অভিজ্ঞতাই ছিল না। নির্বাচনী হলফনামাতেও জায়েদা খাতুনের পেশার ঘরে লেখা গৃহিণী। সেখানে প্রধান প্রতিপক্ষ আজমত উল্লা খান রীতিমতো ঝানু রাজনীতিবিদ। তার ওপর তিনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
মে ২৬, ২০২৩ ১২:৩৩ Asia/Dhaka

বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠে তো বটেই, সর্বত্র এখন আলোচনার কেন্দ্রে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে নতুন নির্বাচিত মেয়রের প্রসঙ্গ। কারন বিজয়ী প্রার্থীর নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কোনো অভিজ্ঞতাই ছিল না। নির্বাচনী হলফনামাতেও জায়েদা খাতুনের পেশার ঘরে লেখা গৃহিণী। সেখানে প্রধান প্রতিপক্ষ আজমত উল্লা খান রীতিমতো ঝানু রাজনীতিবিদ। তার ওপর তিনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী।

আপাতদৃষ্টিতে ভোটের মাঠে দুজনের লড়াই অসম হলেও সে লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছেন গৃহিনী জায়েদা খাতুনই। আজমত উল্লাকে স্পষ্ট ব্যবধানে হারিয়ে গাজীপুরের নতুন মেয়র জায়েদা খাতুন। 

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টায় পাওয়া চূড়ান্ত ফলোফলে দেখা যায়, নৌকা প্রতীকের আজমত উল্লা খানকে ১৬ হাজারেরও বেশি ভোটে হারিয়েছেন টেবিল ঘড়ি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী জায়েদা খাতুন।

সিটির ৪৮০টি কেন্দ্রে জায়েদা খাতুন পেয়েছেন দুই লাখ ৩৮ হাজার ৯৩৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আজমত উল্লা পেয়েছেন দুই লাখ ২২ হাজার ৭৩৭ ভোট। দুজনের ভোটের ব্যবধান ১৬ হাজার ১৯৭। অথচ জায়েদা খাতুন যে ভোটে আজমত উল্লা খানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তেমন আশাই কি কেউ করেছিল?

সাদা চোখে হিসাবটা এমন মনে হলেও জায়েদা খাতুনের নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন অনেকেই। তবে সেটি ব্যক্তি জায়েদা খাতুনের কোনো ক্যারিশমার কারণে নয়, বরং তার ছেলের কারণে। জাহাঙ্গীর আলমের প্রার্থিতা যখনই বাতিল হয়েছে, তখন তার মা যে ছেলের ভোট ব্যাংকের পুরোটাই পাবেন, সেটি ছিল তাদের অনুমান। তবে তাতেও নৌকার প্রার্থীকে হারানো সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান ছিলেন অনেকেই। সেখানে ‘সিমপ্যাথি কার্ড’ ভূমিকা রেখেছে বলেও মনে করছেন কেউ কেউ। 

গাজীপুরের ভোটাররা বলছেন, জায়েদা খাতুন নিজে রাজনীতিবিদ না হলেও তার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম গাজীপুরের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও তার বাইরেও রয়েছে তার নিজস্ব বলয়। তার ওপর মেয়র পদ ও দলের সদস্যপদ হারানো, দলে ফেরার সুযোগ পাওয়ার পর আবারও বহিষ্কার, বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া-সবকিছু মিলিয়ে ‘সিমপ্যাথি কার্ড’ ছিল জাহাঙ্গীরের পক্ষে। তিনি প্রার্থী হতে না পারায় সেই ‘সিমপ্যাথি কার্ডে’র পুরো ফায়দাটাই পেয়েছেন তার মা জায়েদা খাতুন। আর তাতেই আজমত উল্লা খান পেরে ওঠেননি তার সঙ্গে।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ও জানিপপ চেয়ারম্যান ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেছেন, গাজীপুরের সিটি নির্বাচনে জায়েদা খাতুনের মেয়র হিসেবে বিজয়ী হওয়া সরকার তথা দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার জন্য অনেক বড় মেসেজ। ক্ষমতাসীনদের প্রতি সাধারন মানুষের খানিকটা ক্ষোভেরও প্রকাশ ঘটেছে এ নির্বাচনে। একই সাথে দীর্ঘ বিরতির পরে নির্বাচনে ভোট প্রদানের স্বতস্ফুর্ততা ফিরেছে বলেও মনে করেন এই বিশ্লেষক। 

আর সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, সরকারি দলের অতি আত্মবিশ্বাস আর সাধারণ ভোটারদের প্রতি প্রকৃত বিশ্লেষন না থাকায় এধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি। একই সাথে  মার্কিন সরকারের নতুন ভিসা নীতিও এ ক্ষেত্রে প্রভাবক হিসেবে কাজ করতে পারে বলে মনে করেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজমুদার। #

পার্সটুডে/বাদশা রহমান/রেজওয়ান হোসেন/২৬ 

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।