নির্বাচন কমিশনের ওপর জনগণের আস্থার অভাব রয়েছে: শামসুল হুদা
সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন নিয়োগ সংক্রান্ত একটি আইন করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, মতভেদ এড়াতে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে সব রাজনৈতিক দলকে সম্পৃক্ত করা দরকার।
আজ(শনিবার) জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত ‘নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তারা একথা বলেন।
বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে সুজন সম্পাদক ড.বদিউল আলম মজুমদার বলেন, যথার্থ নির্বাচন পরিচালনার জন্য সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদে ‘আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে’ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্বাচন কমিশনে কমিশনার নিয়োগ দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে। কমিশনে নিয়োগ দেয়ার জন্য একটি আইন প্রণয়নের বাধ্যবাধকতা থাকলেও গত ৪৪ বছরেও তা মানা হয়নি। তাই সাংবিধানিক নির্দেশনা অনুযায়ী আইন প্রণয়ন না করে নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ প্রদান করা হলে তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ নিয়ে আমাদের দেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ব্যাপক বিরোধ বিরাজমান। অতীতের প্রায় সব নিয়োগ নিয়েই, বিশেষত দলীয় সরকারের অধীনে নিয়োগ নিয়ে পক্ষপাতদুষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। তাই রাজনৈতিক বিতণ্ডা এড়ানোর লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলকে সম্পৃক্ত করা দরকার।
আলেচনায় অংশ নিয়ে অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ কীভাবে নিশ্চিত হতে পারে এ নিয়ে রাষ্ট্রপতি সব দলের অংশগ্রহণে আলোচনার সূত্রপাত করতে পারেন।’ নির্বাচনী পরিবেশ ঠিক হলে নির্বাচনী ম্যাকানিজম নিয়ে পরে আলোচনা করা যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে সাবেক নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শামসুল হুদা বলেন, ‘আমাদের দেশে নির্বাচন কমিশনের ওপর জনগণের আস্থার অভাব রয়েছে। যে কারণে যারা হেরে যান তারা কারচুপির অভিযোগ আনেন। তাই নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থার অভাব নিরসন করতে হবে এবং নির্বাচনী ফলাফল মেনে নেয়ার সংস্কৃতি তৈরি করতে হবে।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম শাখাওয়াত হোসেন বলেন,‘কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নির্বাচন কমিশন হলো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মূল কেন্দ্র। তাছাড়া কারচুপির মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সাধারণত কর্তৃত্ববাদী সরকার গঠিত হয়।’#
পার্সটুডে/জিএআর/এআরকে/২৯