মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হামলা বর্বরোচিত জেনোসাইড: খালেদা জিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i26884-মিয়ানমারে_রোহিঙ্গাদের_বিরুদ্ধে_হামলা_বর্বরোচিত_জেনোসাইড_খালেদা_জিয়া
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সেদেশের সরকারি বাহিনীর হামলাকে 'সুপরিকল্পিত ও বর্বরোচিত জেনোসাইড’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আজ (রোরবার) প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি মিয়ানমারে চলমান বর্বরতার ঘটনায় গভীর বেদনা ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
নভেম্বর ২৭, ২০১৬ ১৮:০৪ Asia/Dhaka
  • বেগম খালেদা জিয়া
    বেগম খালেদা জিয়া

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সেদেশের সরকারি বাহিনীর হামলাকে 'সুপরিকল্পিত ও বর্বরোচিত জেনোসাইড’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আজ (রোরবার) প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি মিয়ানমারে চলমান বর্বরতার ঘটনায় গভীর বেদনা ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন।

বেগম খালেদা জিয়ার তার বিবৃতিতে বলেন, “সংখ্যালঘু একটি জাতিগোষ্ঠীর ওপর এমন পৈশাচিক নির্মূলভিযানে প্রতিটি বিবেকবান মানুষ স্তম্ভিত। তাদের সকলের হৃদয় বেদনামথিত। এমন ঘৃণ্য ও নিষ্ঠুর কার্যকলাপের নিন্দা জানাবার কোনো ভাষা নেই।"

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, “বর্তমানে ‘রাখাইন’ নামে পরিবর্তিত এককালের স্বাধীন ও গৌরবাজ্জ্বল ঐতিহ্যমণ্ডিত আরাকান অঞ্চলে পরিচালিত এই গণহত্যা অভিযানে সরকারি বাহিনীর ছত্রছায়ায় ভিন্ন সম্প্রদায়ের দাঙ্গাবাজরাও অংশ নিচ্ছে। রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিধর্ম-বিদ্বেষী আক্রোশ চরিতার্থ করতে তাদেরকে গুলি ও জবাই করে এবং পুড়িয়ে হত্যা করা হচ্ছে। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে বাড়িঘর ধ্বংস করে তাদেরকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। সম্ভ্রম লুণ্ঠিত হচ্ছে রোহিঙ্গা নারীদের। দুগ্ধপোষ্য শিশুরাও রেহাই পাচ্ছে না।"

বাংলাদেশে কান্নারত কয়েকজন রোহিঙ্গা মুসলমান

খালেদা জিয়া বলেন, “গভীর পরিতাপ ও দুঃখের বিষয় হচ্ছে, কোনো সামরিক জান্তা নয়, শান্তিতে নোবেল বিজয়ী এবং গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত অং সান সুচি'র নেতৃত্বে পরিচালিত মিয়ানমারের প্রশাসনই এ অমানবিক সন্ত্রাসী কার্যকলাপের হোতা। যিনি নিজে দীর্ঘকাল নির্যাতিত হয়েছেন তিনি কী করে এমন পৈশাচিক তাণ্ডবকে অনুমোদন করছেন, ভেবে আমরা স্তম্ভিত হচ্ছি। অনতিবিলম্বে এই জেনোসাইড বন্ধের জন্য আমি মিয়ানমার সরকারের প্রতি উদাত্ত্ব আহ্বান জানাচ্ছি, যেন আর একটি মানুষও হত্যাকাণ্ড, উচ্ছেদ ও নির্যাতনের শিকার না হয়। ওই অঞ্চলে শান্তি ফেরাতে হত্যা, উৎপীড়ন ও উচ্ছেদের জন্য দায়ী প্রতিটি ব্যক্তিকে আইনামলে এনে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করারও আহ্বান জানাচ্ছি।"

বাংলাদেশের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমারের এই জেনোসাইডের বিরুদ্ধে নিজ দেশের মানুষসহ সারা বিশ্বের বিবেকবান মানুষদের সোচ্চার হবার এবং নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগষ্ঠেীর পাশে দাঁড়াবার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প

বিবৃতিতে তিনি বলেন, “প্রতিটি মানবতাবাদী রাষ্ট্রের সরকার, বিশেষ করে মুসলিম বিশ্ব, জাতিসংঘ ও ওআইসিসহ প্রতিটি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমার আহ্বান, কেবল কথামালা নয়, রোহিঙ্গাদের রক্ষায় বলিষ্ঠ এমন পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে আসুন, যাতে মিয়ানমার সরকার গণহত্যার কালো হাত গুটিয়ে নিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও অপরাধীদের শাস্তিবিধানে বাধ্য হয়।"

প্রতিবেশী অন্যান্য দেশ এবং মুসলিম বিশ্বের প্রতি একই আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, “কেবল শরণার্থীদের আশ্রয় ও সাহায্য দেয়ার মধ্যেই কোনো সমাধান নিহিত নেই। রোহিঙ্গারা যাতে স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে জীবন-সম্পদ-সম্ভ্রমের অখণ্ড নিরাপত্তা ও পূর্ণ নাগরিক অধিকার নিয়ে নিজ মাতৃভূমিতে বসবাস করতে পারে সেই নিশ্চয়তা বিধান কল্পে বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বলিষ্ঠ কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে। এ প্রসঙ্গে আমি বিশ্বসমাজকেও অবিলম্বে সক্রিয় হবার এবং এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।"  

পার্সটুডে/এআর/২৭