আরো ৪ রোহিঙ্গা নৌকা ফেরালো বিজিবি: উখিয়া সফরে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী
-
আরো ৪ রোহিঙ্গা নৌকা ফিরিয়ে দিল বিজিবি: ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী উখিয়া সফর করলেন
মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আরো ৪টি নৌকা আজ ফেরত পাঠিয়েছে বিজিবি সদস্যরা। টেকনাফ বিজিবি-২ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লে. কর্নেল আবুজার আল জাহিদ গণমাধ্যমকে জানান, মিয়ানমারের আরাকান প্রদেশ থেকে টেকনাফের নাফ নদীর জলসীমা অতিক্রম করার চেষ্টা করছিল রোহিঙ্গা বহনকারী নৌকাগুলো। এসময় বিজিবির বাধার মুখে নৌকাগুলো মিয়ানমারে ফেরত যেতে বাধ্য হয়। এসব নৌকায় ১০ থেকে ১৫ জন করে রোহিঙ্গা আরোহী ছিল।
এছাড়া, উখিয়ার সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশকালে ২২ জন রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠিয়েছে বিজিবি।
সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত এসব রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়।
এদিকে, সীমান্ত আতিক্রম করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে কক্সবাজারের উখিয়া সফর করেছেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো এলপি মারসুদি।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী হেলিকপ্টার যোগে কক্সবাজারের উখিয়ায় অবতরণ করেন।
দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা এবং রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পরে তারা কুতুপালংয়ের নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। সে সময় রোহিঙ্গাদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং তাদের খোঁজ-খবর নেন।
এসময় পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জানতে চান তারা মিয়ানমার থেকে কেন পালিয়ে এসেছেন? প্রতি উত্তরে মিয়ানমারের খেয়ারীপ্রাং গ্রামের গুলিবিদ্ধ পা হারানো রোহিঙ্গা হাফিজুল ইসলামের ছেলে মুফিদুল মোস্তফা (২২), আরেক গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গা ইনছং গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে ইলিয়াছ (১৮) চোখের পানি ফেলে মিয়ানমার সেনাদের নিমর্ম নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন। ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে সম্ভ্রমহারা কয়েকজন রোহিঙ্গা নারী তাদের ওপর পৈশাচিক নির্যাতনের বিষয়টি তুলে ধরেন। এসময় ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিমর্ষ দেখাচ্ছিল।
এর পর দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবাসন কমিশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন । এ সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে সোমবার রাতে বাংলাদেশে আসেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো এলপি মারসুদি। কক্সবাজার সফর শেষে ঢাকা ফিরে তিনি আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন।#
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/গাজী আবদুর রশীদ/২০