নাফ নদীতে গুলিতে রোহিঙ্গা নারী নিহত, এক শরণার্থীর প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার টেকনাফে নাফ নদীতে বিজিবির সঙ্গে গুলি বিনিময়ে একজন রোহিঙ্গা নারী নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন।
বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) বাহিনীর কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. রকিবুল হক জানান, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে শাহ পরীর দ্বীপে নাফ নদীরর মোহনায় গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটে। হতাহতদের মধ্যে একজন ছাড়া বাকী সবাই মিয়ানমারের রাখাইনের মংডুর অধিবাসী বলে টেকনাফের ম্যাজিস্ট্রেট তুষার আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান। নিহত নারীর নাম জাহেদা বেগম (৪২)। আহতরা হলেন- রশিদা, নজুমা, আবুল কাশেম ও শফিক আহমেদ। এর মধ্যে শুধু শফিক আহমেদ বাংলাদেশের নাগরিক।
তিনি জানান, রাতে একটি নৌকায় করে তারা টেকনাফ ছেড়ে যাচ্ছিল। এসময় বিজিবি তাদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা গুলি করতে শুরু করে। পরে বিজিবিও পাল্টা গুলি করে। বিজিবির এক কর্মকর্তা বলেন, নৌকায় করে হতাহতরা ইয়াবা পাচার করছিল। তাদের সঙ্গীরা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে মিয়ানমারের দিকে চলে গেছে।
আহতদের টেকনাফ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে। আহতদের কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে কক্সবাজারে অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রিত আবদুল মোতালেব রেডিও তেহরানকে বলেন, মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে অনেক মানুষ নানাভাবে বাংলাদেশ প্রবেশ করছে এটা ঠিক। তাই বলে সবাই যে অপরাধের সাথে যুক্ত, তা ঠিক নয়। তাছাড়া ইয়াবা পাচারকারী সন্দেহে আটক করে বা বিচার না করে এভাবে কাউকে গুলি করে মেরে ফেলা তো অন্যায়।
টেকনাফের এ এলাকা দিয়ে ইয়াবা পাচার হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায়ই বিজিবির অভিযানে ইয়াবা ধরা পড়ার ঘটনাও ঘটছে। বিজিবি’র হাতে এভাবে হত্যার ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। তাছাড়া কয়েকদিন আগে, নাফ নদীতে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) গুলিতে একজন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হবার ঘটনাও ঘটছে। #
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৩