বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ইস্যু: জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে বলে বিশ্লেষক অভিমত
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i40250-বাংলাদেশে_রোহিঙ্গা_ইস্যু_জাতীয়_নিরাপত্তার_জন্য_হুমকি_হতে_পারে_বলে_বিশ্লেষক_অভিমত
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, এদেশে বসবসরত রোহিঙ্গা সম্প্রদায় জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। আজ (বৃহস্পতিবার) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে, সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলমের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জুন ১৫, ২০১৭ ১৫:২৮ Asia/Dhaka

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, এদেশে বসবসরত রোহিঙ্গা সম্প্রদায় জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। আজ (বৃহস্পতিবার) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে, সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলমের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে নিবন্ধিত ৩৩ হাজার এবং অনিবন্ধিত প্রায়  ৪ লাখ  মিয়ানমারের নাগরিক বাংলাদেশের কক্সবাজারসহ ৫টি জেলায় অবস্থান করছে।

গত বছরের অক্টোবরে মিয়ানমার সীমান্ত ফাঁড়িতে হামলা ও তারপর সামরিক অভিযানে রাখাইন রাজ্যের মুসলিম জনগোষ্ঠী ব্যাপক নির্যাতনের শিকার হয়। এতে প্রায় ৭৫ হাজার মিয়ানমারের নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারী মিয়ানমারের এসব নাগরিক বাংলাদেশে সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও পরিবেশগত ব্যাপক ক্ষতিসাধন করছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের মোট জনগোষ্ঠীর ২০ থেকে ২৫ ভাগই রাখাইন প্রদেশের মুসলিম জনগোষ্ঠী। এই বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী ভবিষ্যতে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড: ইমতিয়াজ আহমেদ রেডিও তেহরানকে বলেন, রোহিঙ্গারা একই সাথে রাষ্ট্রবিহীন ও উদবাস্তু। এরকম জনগোষ্ঠী  দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে অবস্থানের কারণে অমাদের দেশের জন্যও সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। তাদের সমস্যার সমাধান না হলে জটিলতা বাড়তে পারে। মিয়ানমার সরকারের সাথে এটি ছাড়াও অন্যান্য ব্যাপারে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করা দরকার।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ  সংসদে  ব্যাখ্যা করে বলেছেন, মিয়ানমারের নাগরিকদের এ দেশে দীর্ঘদিন অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ বিভিন্ন সমস্যার মোকাবেলা করছে। তারা নানাবিধ অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাচ্ছে। তারা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক ভারসাম্য, শ্রমবাজার ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। রাখাইন জনগোষ্ঠী সীমান্তে মাদকদ্রব্য পাচার, অস্ত্র ও মানব পাচার, চোরাচালান, সীমান্তে মাদক উৎপাদনসহ বিভিন্ন অসামাজিক কাজে লিপ্ত রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় এদেরকে দিয়ে  অপরাধচক্র তৈরি করে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা, জাতিগত নিরাপত্তা, জাতিগত পরিচয় ও আর্থ-সামাজিক স্থিতিশীলতার মারত্মক ব্যত্যয় ঘটনো হচ্ছে।#

পার্সটুডে/শামস মন্ডল/গাজী আবদুর রশীদ/১৫