রোহিঙ্গাদের ১০টি গ্রাম পুড়িয়ে দিয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী: এইচআরডব্লিউ
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i45048-রোহিঙ্গাদের_১০টি_গ্রাম_পুড়িয়ে_দিয়েছে_মিয়ানমারের_সেনাবাহিনী_এইচআরডব্লিউ
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের অন্তত ১০টি গ্রাম পুড়িয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
আগস্ট ২৯, ২০১৭ ১৩:৪৭ Asia/Dhaka
  • রোহিঙ্গাদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ (ফাইল ফটো)
    রোহিঙ্গাদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ (ফাইল ফটো)

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের অন্তত ১০টি গ্রাম পুড়িয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

আজ (মঙ্গলবার) এক বিবৃতিতে সংস্থাটি স্যাটেলাইট তথ্যের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এবারের অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছিল। ২০১৬ সালের অক্টোবরে সেনা অভিযানের চেয়ে এবারের আগুনের বিস্তৃতি অনেক বেশি ছিল। ওই সময় প্রায় দেড় হাজার বাড়ি ধ্বংস হয়েছিল।

এইচআরডব্লিউ জানায়, অভিযান শুরুর পর ২৫ আগস্ট দুপুরে রাতেডং টাউনশিপের জে ডি পিন এবং কোয়ে তান কাউক গ্রামে অগ্নিসংযোগ করা হয় বলে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে শনাক্ত করা গেছে। এরপর ২৮ আগস্ট মধ্য সকাল থেকে দুপুর শুরু হওয়ার মাঝামাঝি সময়ে মংডু শহর এবং মংডু টাউনশিপের কিউন তাং ও পা ডা কার তাং, পু খার লি, গোন নার, থা ইয়ে কোন তান ও গোয়া সন গ্রামের আটটি জায়গায় অগ্নিসংযোগ করা হয়। রাখাইনের আরও অনেক জায়গায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলেও স্যাটেলাইটে তার দৃশ্য ধরা পড়েনি বলে জানায় এইচআরডব্লিউ।

যেসব গ্রামে আগুন দেয়া হয়েছে

স্যাটেলাইটের ছবিতে যেসব জায়গায় অগ্নিসংযোগের কথা শনাক্ত করা হয়েছে তার সঙ্গে অগ্নিসংযোগের বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী ও সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনের বিবরণের তুলনা করে দেখার কথা জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাটি। তাদের দাবি, স্যাটেলাইটের দৃশ্য ও কিছু ঘটনার মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়া গেছে।

বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ও অ্যাক্টিভিস্টদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, ইচ্ছাকৃতভাবেই আগুন লাগানো হয়। নতুন স্যাটেলাইট তথ্যে যে পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে তা উদ্বেগজনক।

সংস্থাটি বলেছে, দাতা দেশ ও জাতিসংঘের উচিত রাখাইন রাজ্যের চলমান পরিস্থিতির সঠিক অবস্থা যাতে মিয়ানমার সরকার তুলে ধরে সেই পদক্ষেপ নেয়া। এছাড়া, মিয়ানমার সরকারের উচিত অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘণের অভিযোগ তদন্তে স্বতন্ত্র ব্যক্তিদের ওই অঞ্চলে প্রবেশের সুযোগ দেয়া।

এইচআরডব্লিউ বিবৃতিতে বলেছে, বিদ্রোহীদের ওপর দায় চালিয়ে দিলেই মিয়ানমার সরকারের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা ও মানবাধিকার অধিকার লঙ্ঘনের বিষয় তদন্ত করতে হবে।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টনিও গুয়েতেরেস

রোহিঙ্গাদের হত্যায় জাতিসংঘের উদ্বেগ

এদিকে, রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের হত্যায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টনিও গুয়েতেরেস। পাশাপাশি তিনি পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদেরকে নিরাপদ আশ্রয় দিতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক গতকাল এক বিবৃতিতে এসব কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যারা পালিয়ে আসছেন তার মধ্যে রয়েছেন নারী ও শিশু। তাদের অনেকে আবার আহত। মানবাধিকার বিষয়ক এজেন্সিগুলোর অবাধ সুবিধা পাওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন মহাসচিব। আক্রান্ত এ সম্প্রদায়ের কাছে যাতে সাহায্য পৌঁছে দেয়া ও তাদের সুরক্ষা দেয়া যায় সেই সুবিধা দিতেও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এক্ষেত্রে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ উভয় দেশকে প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা দিতে প্রস্তত রয়েছে জাতিসংঘ।

উল্লেখ্য, ২৫ আগস্ট ভোররাতে রাখাইনের তিনটি জনপদে সীমান্তরক্ষী পুলিশের দুই ডজন চেকপোস্টে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) কথিত হামলাকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে দমন অভিযান তীব্রতর করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। ওই হামলার পর এ পর্যন্ত কয়েকশ মানুষ নিহত হয়েছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করেছে। এসময় উগ্র বৌদ্ধরা সরকারি বাহিনীর সঙ্গে মিলিত হয়ে মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে আগুন লাগিয়েছে।

তখন থেকে প্রাণভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার চেষ্টা করছে রোহিঙ্গারা। তবে বিজিবি ও কোস্ট গার্ড সদস্যরা বাধা দেয়ায় নো-ম্যানস ল্যান্ডে আটকা পড়েছেন তারা।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৯