আবারও ঈদ আনন্দ বঞ্চিত, প্রাণ বাঁচাতেই ব্যস্ত রোহিঙ্গা মুসলমানরা
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i45162-আবারও_ঈদ_আনন্দ_বঞ্চিত_প্রাণ_বাঁচাতেই_ব্যস্ত_রোহিঙ্গা_মুসলমানরা
দুর্ভাগ্য কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের রোহিঙ্গা মুসলমানদের। আবারও সেনাবাহিনীর সহিংস অভিযানে ঘরহারা তারা। জীবন বাঁচাতে ছুটছে বাংলাদেশসহ নানা দিকে। এমনই সময় ঈদুল আজহা আসায় আনন্দ দূরের কথা, প্রাণ বাঁচাতেই ব্যস্ত তারা।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
সেপ্টেম্বর ০১, ২০১৭ ১৬:১৭ Asia/Dhaka

দুর্ভাগ্য কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের রোহিঙ্গা মুসলমানদের। আবারও সেনাবাহিনীর সহিংস অভিযানে ঘরহারা তারা। জীবন বাঁচাতে ছুটছে বাংলাদেশসহ নানা দিকে। এমনই সময় ঈদুল আজহা আসায় আনন্দ দূরের কথা, প্রাণ বাঁচাতেই ব্যস্ত তারা।

মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গত ২৪ আগস্ট রাতে রাখাইন রাজ্যে একসঙ্গে ২৪টি পুলিশ ক্যাম্প ও একটি সেনা আবাসে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর সন্ত্রাসীদের সঙ্গে দেশটির নিরাপত্তাকর্মীদের সংঘর্ষে প্রায় একশজন নিহত হন। এর মধ্যে ১২ নিরাপত্তাকর্মী ও বাকিদের সন্ত্রাসী বলে দাবি করেছে মিয়ানমারে রাষ্ট্রীয় পরামর্শদাতার কার্যালয়।

এরপর থেকেই রাজ্যের মংডু, কিলাইডং, পুজিডংসহ বিভিন্ন এলাকায় দমন অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। এতে স্থানীয় মুসলমান অধ্যুষিত গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া, নির্মমভাবে হত্যা করা, নারী ও শিশুদের নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। জীবন বাঁচাতে পাহাড়ে ও বনে জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছেন অনেকে। আবার অনেকেই ছুটছেন বাংলাদেশের দিকে। সীমান্তে বিজিবির বাধাদান আর নদী ও সাগর পথে গোপনে ঢুকতে গিয়ে নৌকা ডুবে প্রাণও হারিয়েছেন অনেকে। এ অবস্থায় ঈদের কোনো আনন্দ রোহিঙ্গা মুসলমানদের করা সম্ভব নয় বলেই জানান মংডুর কিলাইডং থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসা আহমেদ হোসেন।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে রোহিঙ্গা মুসলমানেরা

পালিয়ে আসার আরেক রাখাইন মুসলিম মোহাম্মদ আয়ুব জানান, ঈদ করার মতো কোনো পরিস্থিতি সেখানে নেই। গ্রামগুলো মিয়ানমারের সেনাবাহিনী পুড়িয়ে দিয়েছে। পুরুষদের হত্যা আর নারীদের নির্যাতন করা হয়েছে। দেখামাত্র গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। যার কারণে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন মুসলমানরা। এ অবস্থায় আনন্দ করার মতো বা এক জায়গায় একত্রিত হয়ে খাওয়া-দাওয়া করার মতো পরিস্থিতি সেখানে নেই।

জ্বলছে রোহিঙ্গাদের গ্রাম

এদিকে, ২০১৬ অক্টোবরেও নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার অভিযোগে, রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সাড়াশি অভিযান চালায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। সেই দমন অভিযানে রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা-ধর্ষণ আর বাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার তথ্যপ্রমাণ পায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। ওই সময় নিপীড়নের শিকার হয়ে  বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয় প্রায় ৭৫ হাজার রোহিঙ্গা।#

পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/১