আরও ৫ মৃতদেহ উদ্ধার: ৮ দিনে বাংলাদেশে এসেছে ৭৩ হাজার রোহিঙ্গা
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i45203-আরও_৫_মৃতদেহ_উদ্ধার_৮_দিনে_বাংলাদেশে_এসেছে_৭৩_হাজার_রোহিঙ্গা
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের জুলুম-নির্যাতন থেকে জীবন বাঁচাতে পালিয়ে আসা আরও পাঁচ রোহিঙ্গা মুসলমানের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে; যাদের মধ্যে এক দম্পতি রয়েছে। এ নিয়ে গত তিনদিনে ৫৫ রোহিঙ্গার মৃতদেহ উদ্ধার হলো। 
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
সেপ্টেম্বর ০৩, ২০১৭ ০৮:০১ Asia/Dhaka
  • কান্নারত এক রোহিঙ্গা নারী
    কান্নারত এক রোহিঙ্গা নারী

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের জুলুম-নির্যাতন থেকে জীবন বাঁচাতে পালিয়ে আসা আরও পাঁচ রোহিঙ্গা মুসলমানের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে; যাদের মধ্যে এক দম্পতি রয়েছে। এ নিয়ে গত তিনদিনে ৫৫ রোহিঙ্গার মৃতদেহ উদ্ধার হলো। 

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নাফ নদীর হোয়াইক্যং পয়েন্ট থেকে পুলিশ এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্ত থেকে বিজিবি শনিবার গভীর রাতে লাশগুলো উদ্ধার করে।

বিজিবির কক্সবাজার-৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মঞ্জুরুল হাসান খান বলেন, শনিবার গভীর রাতে বান্দরবানের ঘুমধুম ইউনিয়নের জলপাইতলী পয়েন্টে শূন্যরেখার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে দুইটি গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা বিজিবিকে খবর দেয়। পরে বিজিবি গিয়ে তা উদ্ধার করে।

মৃতরা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের আকিয়াব জেলার মংডু থানার ঢেঁকিবুনিয়া এলাকার মো.জাফরুল্লাহ ও তার স্ত্রী আয়েশা বেগম বলে ওই এলাকা থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা আবুল হোসেন জানিয়েছেন।  

তিনি বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে সহায় সম্পদ ফেলে গত দুইদিন আগে ঘুমধুম সীমান্ত পেরিয়ে জাফরুল্লাহসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। ফেলে আসা সহায়-সম্পদ আনতে শনিবার তারা ঘুমধুমের জলপাইতলী সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার যান। তারা ঢেঁকিবুনিয়ায় পৌঁছার পর মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও পুলিশ তাদের গুলি করে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তারা বাংলাদেশের দিকে রওনা দেন। এক পর্যায়ে ঘুমধুমের জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি এলাকায় মিয়ানমার অভ্যন্তরে তাদের মৃত্যু হয়।”

এদিকে, টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইন উদ্দিন খান বলেন, শনিবার রাতে হোয়াইক্যং খারাংখালী নাফনদ থেকে এক শিশু ও দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।  

তিনি বলেন, “রাতে স্থানীয়রা লাশগুলো দেখে খানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে সেগুলো উদ্ধার করে। লাশে সামান্য পঁচন ধরেছে। নিহতদের পরনে স্থানীয় বার্মিজ পোশাক ছিল।”

এর আগে শনিবার সকালে নাফ নদীর টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ পয়েন্ট থেকে একজন  ও রাতে হোয়াইক্যং পয়েন্ট দুইজন, বুধবার চারজন, বৃহস্পতিবার ১৯ জন এবং শুক্রবার ২৬ জন রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার করা হয়।

মাকে নিয়ে বাংলাদেশে আসছেন এক রোহিঙ্গা 

বাংলাদেশে এসেছে ৭৩ হাজার রোহিঙ্গা

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সামরিক বাহিনীর সহিংসতার শিকার হয়ে সম্প্রতি প্রায় ৭৩ হাজার রোহিঙ্গা দেশ ছেড়েছে। এদের মধ্যে প্রায় ৫০ হাজারই আহত বলে বার্তা সংস্থার এপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। 

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) হাইকমিশনার ভিভান তান বলেন, গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের সহিংসতাপ্রবণ রাখাইন রাজ্য থেকে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলার মুখে প্রায় ৭৩ হাজার রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে দেশ ছেড়েছে। বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য নো ম্যান্স ল্যান্ডে এখনো হাজার হাজার রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে কাজ করা বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার কর্মীদের বরাত দিয়ে এপি আরো বলছে, মিয়ানমার থেকে ৫০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা আহত অবস্থায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এদের মধ্যে অনেকেই বুলেটের আঘাতে আহত হয়েছে।

 

রোহিঙ্গাদের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়

মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গত ২৪ আগস্ট রাতে রাখাইন রাজ্যে একসঙ্গে ২৪টি পুলিশ ক্যাম্প ও একটি সেনা আবাসে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর সন্ত্রাসীদের সঙ্গে দেশটির নিরাপত্তাকর্মীদের সংঘর্ষে প্রায় একশজন নিহত হন। এর মধ্যে ১২ নিরাপত্তাকর্মী ও বাকিদের সন্ত্রাসী বলে দাবি করেছে মিয়ানমারে রাষ্ট্রীয় পরামর্শদাতার কার্যালয়।

এরপর থেকে রোহিঙ্গা জনপদ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটতে থাকে। রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে হত্যার অভিযোগও করেছেন বাংলাদেশে পালিয়ে আসা অনেক রোহিঙ্গা।

এ অঞ্চলের অমুসলিম নাগরিকদের ভাষ্য, এ পর্যন্ত আরাকানে অন্তত ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছে। ১১ হাজার ৭০০ ‘জাতিগত অধিবাসী’ তাদের বাসস্থান ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বলেছে, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ১০টি গ্রাম পুড়িয়ে দেয়ার উপগ্রহ চিত্র পাওয়া গেছে।

স্যাটেলাইট তথ্যের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানিয়েছে, এবারের অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছিল। ২০১৬ সালের অক্টোবরে সেনা অভিযানের চেয়ে এবারের আগুনের বিস্তৃতি অনেক বেশি ছিল। ওই সময় প্রায় দেড় হাজার বাড়ি ধ্বংস হয়েছিল।#

পার্সটুডে/এআর/৩