বঙ্গোপসাগর ও নাফ নদীতে রোহিঙ্গাবাহী ১২ নৌকাডুবি, ৭ জনের মৃত্যু
-
শাহপরীর দ্বীপ এলাকার নাফ নদীতে রোহিঙ্গাবাহী একটি নৌকা (ফাইল ফটো)
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও পুলিশের দমন-পীড়ন থেকে প্রাণে বাঁচতে নৌপথে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় বঙ্গোপসাগর ও নাফ নদীর মোহনায় রোহিঙ্গাদের ১২টি নৌকা ডুবে গেছে। এসব ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে ও আজ (বুধবার) সকালে সাতজন রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. মাইন উদ্দিন খান বলেন, ‘শাহপরীর দ্বীপ এলাকার নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় লাশ ভাসতে দেখে লোকজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেয়। পরে ৭ রোহিঙ্গার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।’
তিনি জানান, এ পর্যন্ত বঙ্গোপসাগর ও নাফনদী থেকে ৬২ রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় দাফন করা হয়। গত বুধবার ৪ জন, বৃহস্পতিবার ১৯ জন ও শুক্রবার ২৬ জন রোহিঙ্গা শিশু, নারী ও পুরুষের লাশ উদ্ধার করা হয়।
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফজলুল হক জানিয়েছেন, ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশী যাত্রী বহন করায় বদরমোকাম এলাকার উপকূলে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। নৌকাডুবির পর অনেকে সাঁতরে তীরে উঠেছেন।
সাঁতরে তীরে উঠা কয়েকজন রোহিঙ্গার বরাত দিয়ে ফজলুল হক বলেন, শতাধিক রোহিঙ্গা এখনো নিখোঁজ। মোহনা অতিক্রম করার সময় নৌকা উল্টে যায়। একেকটি নৌকায় ২৫ থেকে ৩০ জন যাত্রী ছিল।
উপকূলের নিরাপত্তায় কাজ করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোস্টগার্ড শাহপরীর দ্বীপের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট ফয়সাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাদের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে দমন অভিযান শুরুর পর প্রতিদিনই হাজার রোহিঙ্গা বিপদসংকুল নদী ও সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থার হিসাব মতে, গত ১৩ দিনে বাংলাদেশে দেড় লক্ষাধিক রোহিঙ্গা নতুন করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
মিয়ানমার সরকারের বরাত দিয়ে জাতিসংঘ গত ১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, মিয়ানমারে সহিংসতা শুরুর পর গত এক সপ্তাহে ৪০০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩৭০ জন ‘রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী’, ১৩ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, দু’জন সরকারি কর্মকর্তা এবং ১৪ সাধারণ নাগরিক। তবে নীরিহ রোহিঙ্গা নিহতের সংখ্যা এর কয়েকগুণ বলে নিরপেক্ষ সূত্রগুলো মনে করছে। #
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান./১৫