সীমান্তে ল্যান্ডমাইন স্থাপন: মিয়ানমারের ওপর কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধির পরামর্শ
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i45329-সীমান্তে_ল্যান্ডমাইন_স্থাপন_মিয়ানমারের_ওপর_কূটনৈতিক_চাপ_বৃদ্ধির_পরামর্শ
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবারো মিয়ানমারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্টদূত অং মিন্টকে তলব করে সীমান্তে ল্যান্ডমাইন স্থাপন এবং রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৭ ১৬:৪৯ Asia/Dhaka

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবারো মিয়ানমারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্টদূত অং মিন্টকে তলব করে সীমান্তে ল্যান্ডমাইন স্থাপন এবং রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে।

আজ (বুধবার) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অনুবিভাগের মহাপরিচালক মঞ্জুরুল করীম মিয়ানমারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্টদূত অং মিন্টকে তলব করে বাংলাদেশে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একটি অনানুষ্ঠানিক পত্র হস্তান্তর করেন। ওই পত্রে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত সব রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য মিয়ানমার সরকারকে আহ্বান জানানো হয়।

গত দুই সপ্তাহের মধ্যে এ নিয়ে তিনবার মিয়ানমারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে পাঠানো হলো। এর মধ্যে দ্বিতীয় দফায় তাকে ডেকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে জঙ্গি প্রতিরোধে যৌথ টহলের প্রস্তাব দেওয়া হয়। 

মিয়ানমারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্টদূত অং মিন্ট

এর আগে আন্তর্জাতিক  বার্তা সংস্থা রয়টার্স খবর দিয়েছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চরম নির্যাতনের মুখে রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে দেশের বাইরে যেতে না পারে বা পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গারা যাতে ফের সীমান্ত গলিয়ে দেশে ফিরতে না পারে, সে জন্য মিয়ানমার সীমান্তবর্তী অঞ্চলজুড়ে প্রাণঘাতী স্থলমাইন পুঁতে রাখা হচ্ছে ।  

রয়টার্স আরো জানিয়েছে, তিন দিন ধরে মিয়ানমার এই স্থলমাইন পোঁতার কাজ করছে।

নতুন করে সহিংসতা সৃষ্টির পর মিয়ানমার থেকে গত ১৩ দিনে দেড় লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তাদের অনেককেই সীমান্তে বাধা দিচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এমন হাজার হাজার মানুষ প্রাণভয়ে ফের বাড়িতে ফিরতে না পেরে সীমান্তেই অবস্থান করেছ।

বাংলাদেশে প্রবেশের সময় বাধা পাওয়া রোহিঙ্গারা যাতে আর রাখাইনে না ফিরতে পারে, সে জন্যই স্থলমাইন বসানো হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

 সীমান্তে পুঁতে রাখামাইন বিস্ফোরণে পা হারিয়েছেন সাবেকুন্নাহার (৫৫) নামের এক নারী

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হাসান খান রয়টার্সকে বলেছেন, গতকাল মঙ্গলবারও তিনি মিয়ানমার সীমান্তে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। এর আগে সোমবারও এ ধরনের দুটি বিস্ফোরণ হয়েছে। মঙ্গলবারের বিস্ফোরণে একটি বাচ্চার বাম পা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে চিকিৎসা নিতে আসে। তার সঙ্গে আসা আরেকটি বাচ্চাও সামান্য আঘাত ছিল বলে জানান বিজিবি কর্মকর্তা। ভুক্তভোগী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বরাত দিয়ে বিজিবি কর্মকর্তা আরো বলেন, সীমান্তে নো-ম্যানস ল্যান্ডে জলাভূমিতে স্থলমাইন পুঁতে রাখা ছিল।   

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. সি, আর, আবরার

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. সি, আর, আবরার রেডিও তেহরানকে বলেন, এ অবস্থায় বাংলাদেশকে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হবে, বিশেষ করে চীন ও ভারতের সঙ্গে। কারণ এ দুটি দেশ মিয়ানমারের সাথে খুবই ঘনিষ্ঠ। মিয়ানমারের ওপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে যাতে তারা আঞ্চলিক শান্তির স্বার্থে রোহিঙ্গা নির্মূল অভিযান বন্ধ করে এবং  বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের যথাযথ নাগরিক মর্যাদা দিয়ে দেশে ফেরত নিতে বাধ্য হয়।  

নো ম্যান্স ল্যান্ডে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অবস্থান

এদিকে, গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে দেশটির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি মিয়ানমার সরকারকে রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি ও ঢাকায় ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত রিনা প্রিতিয়াসমিয়ারসি সোয়েমারনোর সঙ্গে আলাদা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গারা এ দেশের জন্য বোঝা—উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবল মানবিক দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিয়েছে। তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোকেই বাংলাদেশ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে। 

গতকাল সন্ধ্যায় গণভবনে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা মিয়ানমারের সংকট মোকাবেলায় সব রকম সহযোগিতা করব, কিন্তু তাদের উচিত সহিংসতা বন্ধ করা। ’

সমস্যার সমাধান প্রসঙ্গে মিয়ানমারের উদ্দেশে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, "এটা সামরিকভাবে সমাধান করা যাবে না। রাজনৈতিকভাবে সমস্যার সমাধান করতে হবে।"

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৫