রোহিঙ্গাদের উখিয়ায় স্থানান্তরের পরিকল্পনা, টং ঘর বানাতে টাকা নেয়ার অভিযোগ
-
পাহাড়ে রোহিঙ্গাদের বসতি
বাংলাদেশের বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের কক্সবাজারের উখিয়ায় সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ক্য শৈ হ্লা এ তথ্য জানান।
গতকাল (বুধবার) নাইক্ষ্যংছড়ির চাকঢালা সীমান্তের জিরো লাইনে অপেক্ষমাণ রোহিঙ্গাদের অবস্থা পরিদর্শন করেছেন ক্য শৈ হ্লা। এ উপলক্ষে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা টিটিসি হলে আয়োজিত সমাবেশে ক্য শৈ হ্লা জানান, সরকারি নির্দেশনার আলোকে রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্য প্রদান করা হচ্ছে। অসহায় মানুষদের মধ্যে সীমিত পর্যায়ে খাবার ও ওষুধপত্রসহ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটও প্রদান করা হচ্ছে।
জিরো লাইনে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা বিধানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়ার তথ্য জানিয়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো একটি বিশেষ এলাকায় অন্য দেশের নাগরিকদের বেশিদিন অবস্থান করতে দেয়া সমীচিন নয়।
তিনি বলেন, "বিভিন্ন জাতিসত্তার মানুষ এ অঞ্চলে বসবাস করে। এ অবস্থায় নির্যাতিত রোহিঙ্গারা যাতে অন্য সম্প্রদায়ের শঙ্কার কারণ না হয়ে ওঠে- সে বিষয়টিও আমাদের গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হচ্ছে।"
ক্য শৈ হ্লা জানান, কোনো ধরনের জোর-জবরদস্তি নয়, সম্মানের সঙ্গেই তাদেরকে পর্যায়ক্রমে কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের আশপাশের এলাকায় সরিয়ে নেয়া হবে। এতে শরণার্থী নিবন্ধন ও তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেয়া অধিকতর সহজ হবে।
এদিকে, সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের দমন-পীড়নের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে একদল লোক টাকা নিয়ে কক্সবাজারের উখিয়ায় পাহাড়ের ঢালে তাদের টং ঘর করতে দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রভাবশালীদের ২১ জনের একটি দল পরিবার প্রতি তিন হাজার করে টাকা নিয়ে বালুখালিতে রোহিঙ্গাদের ঘর বানাতে দিচ্ছে বলে বালুখালি সামাজিক বনায়ন প্লট সমিতির সভাপতি আলমগীর নিশা অভিযোগ করেছেন।
তিনি বলেন, “ওই চক্রে কয়েকজন সাবেক মেম্বার, কয়েকজন ডাকাত ও খারাপ প্রকৃতির মানুষ রয়েছে। এদের সঙ্গে পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের কম্পিউটার অপারেটরও আছেন। তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে আমাদের সমস্যা হবে।”
তিনি কারও নাম না বললেও স্থানীয় কয়েকজন এই দলের প্রধান হিসেবে পালংখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল কাদের ভুট্টোর নাম বলেছেন।
আলমগীর নিশা বলেন, “তারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের ধরে এনে তাদের পকেট চেক করে টাকা নিয়ে পাহাড়ি ঢালে মাসিক ৫০০ বা ১ হাজার টাকা ভাড়ার ভিত্তিতে বরাদ্দ দিচ্ছেন।”
গত বছরের শেষ দিকে মিয়ানমারে সহিংসতার মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অনেককে উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালীর মাঝখানে একটি এলাকায় থাকতে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। তাদের আবাসনের জন্য ওই এলাকার ৫০ একর জমি বরাদ্দের জন্য বন বিভাগের কাছে আবেদন করা হয়েছে। নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদেরও সেখানে স্থান দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে, সম্প্রতি বাংলাদেশে প্রবেশ করা রোহিঙ্গাদের অধিকাংশই উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন বন ও পাহাড়ে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের কেউ কেউ ঝুঁকিপূর্ণ হলেও পাহাড়ে বিভিন্ন স্থান থেকে বাঁশ এনে পলিথিনের ছাউনি দিয়ে তৈরি করছেন টং ঘর। বনবিভাগের যেসব জায়গায় স্থানীয়দের তেমন যাতায়াত নেই, সেসব জায়গাতেই তারা গড়ে তুলছেন এসব বসতি।#
পার্সটুডে/এআর/১৬