নাফ নদীতে নৌকাডুবি: জীবন দিল আরও ১১ রোহিঙ্গা শিশু-নারী
-
রোহিঙ্গাদের বহনকারী একটি নৌকা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের জুলুম-নির্যাতন থেকে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দু'টি নৌকা নাফ নদীতে ডুবে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানার বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক কাঞ্চন কান্তি দাস জানান, "আজ (বৃহস্পতিবার) ভোর ৪টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বহনকারী দুটি নৌকা টেকনাফের তুলাতলি এবং শাহপরীর দ্বীপের কাছে ডুবে যায়। প্রতিটি নৌকায় ২০ থেকে ২৫ জন শরণার্থী ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ শামলাপুর এলাকায় বঙ্গোপসাগর থেকে ১৮ মাসের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে বলে। এছাড়া, আরও ১০ রোহিঙ্গার মরদেহ বঙ্গোপসাগরের শাহপরীর দ্বীপ ও বাহারছড়া ইউনিয়নের উপকূল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।"
এ পর্যন্ত বঙ্গোপসাগর ও নাফনদী থেকে নৌকাডুবির ঘটনায় ৭৩ রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল শাহপরীর দ্বীপ এলাকার নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় থেকে ৭ রোহিঙ্গার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে গণহত্যা শুরুর পর প্রতিদিনই হাজার রোহিঙ্গা বিপদসংকুল নদী ও সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থার হিসাব মতে, গত ১৩ দিনে বাংলাদেশে দেড় লক্ষাধিক রোহিঙ্গা নতুন করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
মিয়ানমার সরকারের বরাত দিয়ে জাতিসংঘ গত ১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, মিয়ানমারে সহিংসতা শুরুর পর গত এক সপ্তাহে ৪০০ জন নিহত হয়েছে। তবে রোহিঙ্গা হত্যার প্রকৃত সংখ্যা এর কয়েকগুণ বলে নিরপেক্ষ সূত্রগুলো বলছে। #
পার্সটুডে/এআর/১৬