রোহিঙ্গাদের যে স্রোত বাংলাদেশে আসছে, তাতে সরকার উদ্বিগ্ন: ওবায়দুল কাদের
-
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নির্যাতনের শিকার হয়ে রোহিঙ্গাদের যে স্রোত বাংলাদেশে আসছে, তাতে সরকার উদ্বিগ্ন। এই স্রোতের সঙ্গে মাদক ও অস্ত্র আসছে কি না, তা আরও বেশি উদ্বেগের।
আজ (বৃহস্পতিবার) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমারের পুশ ইন নীতির প্রতিবাদ করছে। তবে যারা আসছে, তাদের প্রতি যেন মানবিক আচরণ দেখানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে দেড় লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশ এসেছে। এই পরিস্থিতি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করা হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, রোহিঙ্গা জনস্রোতের এই যে বিশাল বোঝা, তা বহনের ক্ষমতা সরকারের নেই। ইতিমধ্যে বাংলাদেশে মিয়ানমারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে নিয়ে এই নিপীড়ন বন্ধ করার জন্য জোরালো দাবি করা হয়েছে। তাছাড়া, জাতিসংঘকেও বাংলাদেশের উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। যারা ওখান থেকে জীবন নিয়ে পালিয়ে এসেছে, তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর দাবি করেছে বংলাদেশ।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিএনপি যে মানববন্ধন কর্মসূচির ডাক দিয়েছে, সে বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় কি না, সেটা নিয়ে তারা (আওয়ামী লীগ) উদ্বিগ্ন।

ওদিকে, আজ বৃহস্পতিবার ভোররাত চারটা থেকে সকাল সাড়ে আটটার মধ্যে কক্সবাজারের টেকনাফের সমুদ্র উপকূলে রোহিঙ্গাবাহী আরও দু'টি নৌকা ডুবির ঘটনায় ১০ জন রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া উপকূল থেকে অসুস্থ অবস্থায় এক রোহিঙ্গাকে আজ উদ্ধার করা হয়। পরে তার মৃত্যু হয়।
এর আগে মঙ্গলবার রাত থেকে গতকাল বুধবার ভোর পর্যন্ত রোহিঙ্গাবাহী ১১টি নৌকা নাফ নদী ও সাগরে ডুবে যায়।
গত ২৯ আগস্ট রাত থেকে এ পর্যন্ত নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরে রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকাডুবির ঘটনায় প্রায় ৮৫ জন রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার হলো।
মিয়ানমারের রাখাইনে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংস অভিযানের মুখে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে প্রতিদিনই শত শত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই পারাপারে নৌকা ডুবে প্রাণহানি ঘটছে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৬