বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে তালিকাভুক্তির সিদ্ধান্ত
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের হত্যা-নির্যাতন-ধর্ষণের মুখে রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে তালিকা তৈরি করবে বাংলাদেশ।
আজ (শনিবার) সকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা হাকিম (এডিএম) খালিদ মোহাম্মদ জানিয়েছেন, ‘রোহিঙ্গারা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে যেসব পথ দিয়ে আসছে, তাদের ১৭টি বিশেষ পয়েন্ট চিহ্নিত করেছে। এবার যারা মিয়ানমার থেকে এসেছে সবাইকে তালিকভুক্ত করা হবে। চাইলেই যাতে তাদের খোঁজ পাওয়া যায় সেজন্য তাদের ছবি, আঙ্গুলের ছাপ নেয়া হবে।’ গতকাল জেলা প্রশাসনের সভায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে তিনি জানান।
এডিএম আরও জানান, ‘এবার আসা রোহিঙ্গাদের সবাইকে একসঙ্গে রাখা হবে। তাদের জন্য উখিয়া উপজেলার বালুখালীতে বনবিভাগের পাঁচ হাজার একর জমিতে আশ্রয়ের ব্যবস্থা নেয়া হবে। খুব শিগগিরই এ কাজ শুরু হবে।’

রোহিঙ্গারাও করছে নিজেদের তালিকা
এদিকে, মিয়ানমারের রাখাইন থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা নতুন রোহিঙ্গারা নিজেরাই তাদের তালিকা করেছে। নতুন আশ্রয়কেন্দ্র ও নোম্যান্স ল্যান্ডে থাকা রোহিঙ্গাদের এ তালিকায় পরিবার প্রধান ও তাদের সদস্য সংখ্যা উল্লেখ করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে নতুন আসা রোহিঙ্গারা নিজেরা কমিটিও করেছে। এই কমিটিতে একজন চেয়ারম্যান ও ১০ জন সদস্য রয়েছেন। সদস্যরা চেয়ারম্যানকে সহযোগিতা করবেন।
রাখাইন রোহিঙ্গা শরণার্থী কল্যাণ পরিষদের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি মো. আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘আমরা তালিকা করা শুরু করেছি। যারা বিভিন্নভাবে আশ্রয় নিয়েছেন তাদের নাম ও পরিবারের সদস্য সংখ্যা তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে।’
রাখাইনে সহিংসতা শুরুর পর গত ২৫ অক্টোবর থেকে প্রায় এক লাখ ৬৪ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার দেয়া তথ্য মতে, রোহিঙ্গারা আসছেন বিপদসঙ্কুল পথ পাড়ি দিয়ে। অনেকে দিনের পর দিন অভুক্ত অবস্থায় দুর্গম পাহাড়-জঙ্গল পেরিয়ে নদী ও সমুদ্র পথ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এতে অহরহই ঘটছে নৌকাডুবির মতো ঘটনা। দুর্ঘটনার পর ভেসে উঠা লাশের সংখ্যা পাওয়া গেলেও নিখোঁজের সংখ্যা অজানাই থেকে যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে এমন দুর্ঘটনায় কক্সবাজারে অন্তত ৯৩ জন রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া, এখন পর্যন্ত এক হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে।
গত ২৪ আগস্ট রাতে রাখাইন রাজ্যে একসঙ্গে ২৪টি পুলিশ ক্যাম্প ও একটি সেনা আবাসে কথিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশুদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকে।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৮