বান্দরবান সীমান্তে মিয়ানমারের পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণ: ৩ রোহিঙ্গা নিহত
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i45547-বান্দরবান_সীমান্তে_মিয়ানমারের_পুঁতে_রাখা_স্থলমাইন_বিস্ফোরণ_৩_রোহিঙ্গা_নিহত
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যকে মুসলিমশূন্য করার অভিযানের অংশ হিসেবে দেশটির সীমান্তরক্ষীদের পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে তিন রোহিঙ্গা নিহত এবং অপর তিনজন আহত হয়েছেন।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৭ ০৭:২০ Asia/Dhaka
  • মিয়ানমারের তুমব্রু সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে পায়ের নিচের অংশ উড়ে যাওয়া সাবেকুন্নাহারকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। (ফাইল ফটো)
    মিয়ানমারের তুমব্রু সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে পায়ের নিচের অংশ উড়ে যাওয়া সাবেকুন্নাহারকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। (ফাইল ফটো)

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যকে মুসলিমশূন্য করার অভিযানের অংশ হিসেবে দেশটির সীমান্তরক্ষীদের পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে তিন রোহিঙ্গা নিহত এবং অপর তিনজন আহত হয়েছেন।

বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন রেজু আমতলি ও তুমব্রু সীমান্তে গতকাল (শনিবার) রাত ও আজ (রোববার) সকালে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।

বান্দরবানের ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. ফরিদ উদ্দিন জানান, শনিবার রাত ১০টার দিকে রেজু অমতলি সীমান্তের জিরো লাইনের কাছে স্থলমাইন বিস্ফোরণ হলে তিন রোহিঙ্গা নিহত ও একজন আহত হন। সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। আহত আবদুল করিমকে চিকিৎসার জন্য উখিয়া হাসপাতালে আনা হলেও লাশগুলো ওপারের জিরো লাইনেই পড়ে রয়েছে।

তারা আরও জানান, রোববার ভোরে তুমব্রু সীমান্তের বাংলাদেশ-মিয়ানমার ৩৭-৩৮নং পিলারের মধ্যস্থানে স্থলমাইন বিস্ফোরণের অন্য ঘটনাটি ঘটে। এ সময় ঘুমধুমের বাইশফাঁড়ি এলাকার বাসিন্দা আবুল খায়েরের ছেলে মো. হাসান (৩২) আহত হন।

এই দুই জনপ্রতিধি আরও জানান, ভোরে ঘুমধুমের তুমব্রু সীমান্ত দিয়ে হাসান গরু আনতে গেলে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পুতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে তার একটি পা উড়ে গেছে এবং চোখেও আঘাত লেগেছে। এ সময় আতা উল্লাহ নামের অপর এক রোহিঙ্গা যুবকও আহত হন। পরে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় তাদের উদ্ধার করেন। বর্তমানে তারা উখিয়া কুতুপালং ইউএনএইচসিআর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে আসছে রোহিঙ্গা মুসলমানরা

এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর (সোমবার) বিকেলে  মাইন বিস্ফোরণের পরদিন (মঙ্গলবার) দুপুরে আবারো মাইন বিস্ফোরণ ঘটে। এসব মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় কতজন হতাহত হয়েছেন তা সঠিকভাবে জানা যায়নি। তবে, বিস্ফোরণে মারাত্মক আহত নারী সাবেকুন্নাহার ও শিশুকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়েছে। বিস্ফোরণে তাদের পা ঝাঁজরা হয়ে গেছে। 

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বাংলাদেশ-মিয়ানমার নোম্যান্স ল্যান্ডের কয়েক শ’ গজের মধ্যে নতুন করে স্থলমাইন পুঁতেছে। বিশেষ করে সীমান্তের যেসব পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসছেন সেসব পয়েন্টে বিপুল মাইন পুঁতে রাখছে। বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে মাইন স্থাপনের প্রতিবাদ জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও স্থলমাইন ও বিস্ফোরক পুঁতে রাখার কড়া সমালোচনা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬-৯৭ সালের দিকে মিয়ানমারের নাসাকা বাহিনী সীমান্তজুড়ে প্রথম স্থলমাইন পুঁতে রাখার কাজ শুরু করে এবং ১৯৯৮ সাল থেকে এসব মাইন বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা ঘটতে থাকে।

ভূমিমাইন উৎপাদন, মজুদ ও বিক্রি নিষিদ্ধকরণ চুক্তিতে বিশ্বের যে ৩৫টি দেশ স্বাক্ষর করেনি তাদের একটি হচ্ছে মিয়ানমার। শুধু তাই নয়, ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পিং টু ব্যান ল্যান্ডমাইন আইসিবিএলের তথ্য অনুযায়ী একমাত্র এ দেশটি সরকারিভাবে মাইন উৎপাদন, মজুদ ও বসানোর কাজ করে যাচ্ছে।

আরাকানে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সরকারের শুরু করা ‘অপারেশন চোয়াব’ এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে আরাকান রাজ্যকে রোহিঙ্গাশূন্য করা। তাই তারা এর নাম দিয়েছে ‘অপারেশন চোয়াব’। ইংরেজি শব্দ ‘চোয়াব’ মানে হচ্ছে মুছে ফেলা বা নিশ্চিহ্ন করা। এবারের অপারেশনে রাখাইন কিংবা আরাকান থেকে রোহিঙ্গা নামটি চিরতরে মুছে ফেলতে চলছে রাষ্ট্রীয় নিধনযজ্ঞ। নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ, অমানবিক নির্যাতন, নারীদের ধর্ষণ, বাড়িঘরে আগুন দেয়াসহ যেকোনো মূল্যে রোহিঙ্গাদের নির্মূল করার চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়া হয়েছে সেনাবাহিনীকে।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১০