ওআইসি'র হস্তক্ষেপ কামনা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টের: চাপ ঠেকাতে তৎপর মিয়ানমার
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i45583-ওআইসি'র_হস্তক্ষেপ_কামনা_বাংলাদেশের_প্রেসিডেন্টের_চাপ_ঠেকাতে_তৎপর_মিয়ানমার
বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ মিয়ানমারের জাতিগত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মুসলিম দেশগুলোর সংস্থা ওআইসির সদস্যদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৭ ১৬:৫১ Asia/Dhaka

বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ মিয়ানমারের জাতিগত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মুসলিম দেশগুলোর সংস্থা ওআইসির সদস্যদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তিনি বলেছেন, নিজ দেশে রোহিঙ্গাদের ওপর বারংবার অত্যাচারের ফলে তাদের অস্তিত্ব যেমন হুমকির মুখে পড়ছে এবং তেমনি বাংলাদেশকেও বিপুল সংখ্যক অসহায় রোহিঙ্গার বোঝা বহনের মতো মারাত্মক সংকটের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানাতে রোববার প্যালেস অব ইন্ডিপেন্ডেন্সে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি)’র প্রথম ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্মেলন’-এ ভাষণ দানকালে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ একথা বলেন।

এর আগে গতকাল রবিবার  ওআইসির এ সম্মেলনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে মুসলিম বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।  তুরস্কের প্রেসিডেন্ট আরো বলেছেন,  রোহিঙ্গা মুসলমানদের মানবিক বিপর্যয় প্রতিরোধে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চায় আঙ্কারা।  সম্মেলনের বিরতিতে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে দেখা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান।

 এদিকে, মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আজ রোববার বিকেলে কূটনীতিকদের ব্রিফ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। প্রথমে পাশ্চাত্যের দেশগুলোর কূটনীতিকদের সঙ্গে এবং পরে মুসলিম দেশের কূটনীতিকদের আলাদাভাবে ব্রিফ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ব্রিফিং এ পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে। রোহিঙ্গাদের নিয়ে এখন যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে কীভাবে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করা যায়, এ নিয়ে ব্রিফিংয়ে আলোচনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ সমস্যা মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা প্রসংগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত  অধ্যাপক ড: আকমল হোসেন রেডিও তেহরানকে বলেন, দেরীতে হলেও বাংলাদেশ যে তৎপরতা শুরু করেছে তা পরিস্থিতির পরিবর্তন আনার জন্য যথেষ্ট নয়।

তিনি মনে করেন আরো জোরদার কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হবে, ওআইসি সদস্য ও পশ্চিমা দেশগুলির মাধ্যমে রাজনৈতিক চাপের পাশাপাশি মিয়ানমারের ওপর অর্থনৈতিক চাপও সৃষ্টি করতে হবে।

মিয়ানমার কী কূটনীতি খেলছে?

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলায় কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে  মিয়ানমার। এরই মধ্যে তারা চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে  কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা করেছে । জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ যাতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে না পারে সে জন্য এই তৎপরতা।

আয়ারল্যান্ড থেকে প্রকাশিত অনলাইন দ্য আইরিস ইন্ডিপেন্ডেন্টে  প্রকাশিত এক রিপোর্টে জানা যায়,  নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমার বিরোধী যেকোনো উদ্যোগ, সেটা অবরোধ বা যা-ই হোক, তা আটকে দিতে চীন ও রাশিয়াকে ব্যবহার করতে চাইছে মিয়ানমার। এ জন্য তারা ওই দুটি দেশের সঙ্গে সমঝোতা করছে বলে জানিয়েছে  মিয়ানমার।

তাছাড়া, মিয়ানমার সফরে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রোহিঙ্গা বিরোধী  অভিযানে মিয়ানমার সরকারের পক্ষে  সমর্থন দিয়ে এসেছেন।

ইতোমধ্যে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সেদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। রাজ্যগুলোকে এ বিষয়ে টাস্কফোর্স গঠন করতে বলা হয়েছে।

তবে  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ভারতের অনলাইন আনন্দবাজার পত্রিকা খবর দিয়েছে, মমতা বলেছেন, তার রাজ্য থেকে রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করা হবে না। তারা যদি পশ্চিমবঙ্গে থাকতে চান তাহলে মানবিকতার খাতিরে আশ্রয় দেয়া হবে তাদেরকে। তারা থাকতে পারবেন পশ্চিমবঙ্গে। কোনো অবস্থাতেই তাদেরকে জোর করে ফেরত পাঠানো হবে না।

ওদিকে, মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে  মারাত্মক উদ্বেগ প্রকাশ করে  জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টনিও গুতেরাস গত সপ্তাহেই  জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, মিয়ানমারের চলমান সহিংসতা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে (হিউম্যানিটারিয়ান ক্যাটাস্ট্রোফ) রূপ নিতে পারে। এ ছাড়া তিনি মিয়ানমারে জাতি নির্মূলের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে তিনি সতর্কতা উচ্চারণ করে বলেছেন, এ ঘটনায় পুরো অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।

তাছাড়া, মিয়ানমার সরকারের  অংশীদার নোবেল বিজয়ী নেত্রী অং সান সুচি স্টেট কাউন্সেলরের পদে থেকেও  সংখ্যালঘু  রোহিঙ্গাদের  পক্ষে কোনো কথা না বলার কারণে  বিশ্বব্যাপী সমালোচনার মুখে রয়েছেন।  অনেকে সুচিকে  শান্তির জন্য দেওয়া  নোবেল পুরস্কার কেড়ে নেয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু মিয়ানমার সরকারের সুরে সুর মিলিয়ে  অং সান সুচিও রাখাইন রাজ্যে  চলমান সহিংসতাকে ‘টেরোরিস্টদের’ বিরুদ্ধে লড়াই হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।#

পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/মো.রেজওয়ান হোসেন/১০