'মিয়ানমার থেকে চাল আমদানি বন্ধ করুন, শিশুদের রক্তমাখা বার্মিজ পণ্য কিনবেন না'
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i45631-'মিয়ানমার_থেকে_চাল_আমদানি_বন্ধ_করুন_শিশুদের_রক্তমাখা_বার্মিজ_পণ্য_কিনবেন_না'
রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার প্রতিবাদ এবং তাদের মাতৃভূমি ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে ঢাকায় মিয়ানমার দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি পালন ও স্মারকলিপি দিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৭ ১৩:৫০ Asia/Dhaka
  • 'মিয়ানমার থেকে চাল আমদানি বন্ধ করুন, শিশুদের রক্তমাখা বার্মিজ পণ্য কিনবেন না'

রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার প্রতিবাদ এবং তাদের মাতৃভূমি ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে ঢাকায় মিয়ানমার দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি পালন ও স্মারকলিপি দিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ।

আজ (সোমবার) বিকেল সোয়া ৪টায় রাজধানীর গুলশান-২ নম্বর গোল চত্বরে মিয়ানমার দূতাবাস ঘেরাওয়ের আগে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‘মিয়ানমারের সঙ্গে সরকারের যে বাণিজ্যিক চুক্তি আছে তা প্রত্যাহার করতে হবে। দেশটি বাণিজ্যিকভাবে দুর্বল হলে রোহিঙ্গা নির্যাতনও কমবে।’ এ সময় তিনি ব্যবসায়ীসহ সরকার ও দেশের জনগণকে মিয়ানমারের সব ধরনের পণ্য বর্জনেরও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শিশুদের রক্তমাখা বার্মিজ পণ্য বাংলাদেশের কেউ কেনা-বেচা করবেন না।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর সেনাবাহিনীর নৃশংস দমন-পীড়ন ও গণহত্যার প্রতিবাদে ঢাকায় দেশটির দূতাবাস ঘেরাওয়ের কর্মসূচি নেয় গণজাগরণ মঞ্চ। আজ কর্মসূচি পালনে গেলে দূতাবাসের কাছেই গুলশান-২ গোলচত্বরে পুলিশ গণজাগরণ মঞ্চ কর্মীদের আটকে দেয়। পরে সেখানেই সমাবেশ করেন তারা।

এরপর ইমরান এইচ সরকারের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল মিয়ানমার দূতাবাসে গিয়ে রোহিঙ্গা নির্যাতন ও গণহত্যা বন্ধের দাবি জানিয়ে একটি স্মারকলিপি দেয়।

সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে চাল আমদানির জন্য চুক্তি করে সরকার। রোহিঙ্গা নির্যাতন ও এ কারণে বাংলাদেশ অভিমুখে তাদের ঢল নামার মধ্যেই খাদ্যমন্ত্রী দেশটিতে গিয়ে এই চাল কেনার চুক্তি করেন। এর তীব্র বিরোধিতা করে ইমরান সরকার বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ এই চাল আমদানিতে বাধা দেবে। আমরা চাই, এর আগে সরকারই চাল আমদানি বন্ধ করুক।’

রোহিঙ্গাদের মাতৃভূমি ফিরিয়ে দিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২৪ আগস্ট মধ্যরাতের পর থেকে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। একের পর এক রোহিঙ্গা গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হয়। অভিযানে হেলিকপ্টার গানশিপেরও ব্যাপক ব্যবহার করে তারা। সীমান্তে পুঁতে রাখা হয় স্থলমাইন। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নির্বিচারে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা এবং নারীদের গণধর্ষণের অভিযোগ উঠে। তাদের হত্যাযজ্ঞ থেকে রেহাই পায়নি বয়োবৃদ্ধ নারী এবং শিশুরাও। প্রাণ বাঁচাতে স্রোতের বেগে তারা বাংলাদেশে আসতে শুরু করে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা এসেছে। এছাড়া, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও বৌদ্ধ সন্ত্রাসীদের হামলায় গত ২৫ আগস্ট থেকে গত দুই সপ্তাহে তিন হাজার রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১১