বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণ: রোহিঙ্গা যুবক নিহত
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i45681-বাংলাদেশ_মিয়ানমার_সীমান্তে_স্থলমাইন_বিস্ফোরণ_রোহিঙ্গা_যুবক_নিহত
বাংলাদেশের বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার জামছড়ির গর্জনতলী সীমান্তের মিয়ানমার অংশে স্থলমাইন বিস্ফোরণে এক রোহিঙ্গা যুবক নিহত হয়েছেন। এ সময় তার স্ত্রী আহত হন।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৭ ০৭:৩৪ Asia/Dhaka
  • মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে পুঁতে রাখা মাইনের এই ছবিটি প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
    মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে পুঁতে রাখা মাইনের এই ছবিটি প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

বাংলাদেশের বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার জামছড়ির গর্জনতলী সীমান্তের মিয়ানমার অংশে স্থলমাইন বিস্ফোরণে এক রোহিঙ্গা যুবক নিহত হয়েছেন। এ সময় তার স্ত্রী আহত হন।

গতকাল (সোমবার) রাত ১১টার দিকে ওই দম্পতি কাঁটাতারের বেড়া পার হতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম মোস্তাক আহম্মদ (৩৬)। আর তার স্ত্রীর নাম নুর আয়েশা (২২)।
এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে নারীসহ সাতজন নিহত হলেন।

নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল জানান, “চার সদস্যের ওই পরিবারটি সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া পার হয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় স্থলমাইন বিস্ফোরণ হয়। এতে মোস্তাক আহম্মদ ঘটনাস্থলেই মারা যান। অন্য রোহিঙ্গা শরণার্থীরা লাশটি উদ্ধার করে রাতেই গর্জনতলী সীমান্তে দাফন করেন। আর নুর আয়েশাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।”

বিজিবি ৩১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আনোয়ারুল আজিম জানান, “মিয়ানমার আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে সীমান্তে কাঁটাতার ঘেষে স্থলমাইন ও বিস্ফোরক পুতে রেখেছে। মূলত নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ঠেকাতেই তারা এটি করেছে।”

এর আগে সোমবার স্থল মাইন বিস্ফোরণের শিকার হয়ে রোহিঙ্গা যুবক ইউসুফ নবীর (২৮) দুই পা উড়ে গেছে। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ইউসুফ মিয়ানমারের আকিয়াবের মংডু থানার রেয়াজউদ্দিন পাড়ার মো. শফির ছেলে।

ইউসুফের সঙ্গে থাকা ছোট ভাই মো. নুর জানান, “আমরা তিন ভাই আসছিলাম। বাড়ি থেকে তিন ঘণ্টার হাঁটলে উখিয়ার পূর্ব দিক। আমরা দুইজন আগে হেঁটে আসছিলাম। পেছনে ছিল আরেক ভাই মাহমুদ করিম। হঠাৎ বিস্ফোরণের আওয়াজ পাই। তখন ওই ভাইকে নবী খুঁজতে গেলে আরেকটা বিস্ফোরণ হয়।”

কী বিস্ফোরণ হয়েছিল- জানতে চাইলে নুর বলেন, “মাইন বিস্ফোরণ হয়। মাহমুদ করিম মারা গেছে। নবীকে নিয়ে আমি এপারে চলে আসি।”

মিয়ানমার সরকার বিশ্বজুড়ে নিষিদ্ধ স্থল মাইন ব্যবহার করছে বলে সম্প্রতি মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দাবি করেছে। তবে মিয়ানমার সরকার বরাবরই সীমান্তে স্থল মাইন পুঁতে রাখার কথা অস্বীকার করেছে। দেশটির নেত্রী অং সান সু চির এক মুখপাত্র বলেন, “কে নিশ্চিত করে বলতে পারে যে এসব মাইন সন্ত্রাসীরা পুঁতে রাখছে না।”

অং সান সুচির সরকার অস্বীকার করলেও দুই দেশের যৌথ সীমান্তে মিয়ানমার স্থলমাইন পুঁতে রাখছে বলে দেশটির সরকারের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১২