মিয়ানমার সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে নিহত ২, রাখাইনের ১৭৬টি গ্রাম জনমানবশূন্য
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i45823-মিয়ানমার_সীমান্তে_মাইন_বিস্ফোরণে_নিহত_২_রাখাইনের_১৭৬টি_গ্রাম_জনমানবশূন্য
বাংলাদেশের বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সংলগ্ন মিয়ানমার সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে গত দুই দিনে এক বাংলাদেশিসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। 
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৭ ০৮:৩৯ Asia/Dhaka
  • রোহিঙ্গা মুসলমানদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ
    রোহিঙ্গা মুসলমানদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ

বাংলাদেশের বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সংলগ্ন মিয়ানমার সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে গত দুই দিনে এক বাংলাদেশিসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। 

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) এসএম তৌহিদ কবীর জানান, মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশি নাগরিক হাসেম উল্লাহ (৪০) ও সোমবার রাতে মিয়ানমার নাগরিক মোক্তার আহমদ (৪৫) নিহত হন। এছাড়া, আবদুল কাদের নামে এক রোহিঙ্গা আহত হয়েছেন। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

ওসি তৌহিদ জানান, “মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের চাকঢালা চারার মাঠ এলাকায় বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গার মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন হাসেম উল্লাহ। পরে ৪৪ নম্বর সীমান্ত পিলারের আশপাশে ঘোরাঘুরির এক পর্যায়ে মাইন বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই হাসেম মারা যান। এ সময় আহত হন মিয়ানমার নাগরিক আবদুল কাদের। ঘটনার পরপর তাকে বিজিবি সদস্যরা উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।”

ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে আহত এক রোহিঙ্গাকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে

নিহত হাসেম উল্লাহ নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরের আদর্শ গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালামের ছেলে।

ওসি আরও বলেন, সোমবার রাত ১১টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের বড় ছনখোলা এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে আসার সময় ৪৬ নম্বর পিলারের কাছে মাইন বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই নাগরিক মোক্তার আহমদ নিহত হন। মোক্তারের বাড়ি রাখাইনের বুচিডং দারিয়া বাজার গ্রামে।

রাখাইনের ১৭৬টি গ্রাম এখন জনমানবশূন্য

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান হত্যা, নির্যাতন ও ধর্ষণ থেকে রক্ষা পেতে রোহিঙ্গা মুসলমানরা প্রতিবেশী দেশগুলোতে পালিয়ে যাওয়ায় ১৭৬টি গ্রাম এখন জনমানবশূন্য। মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে ভারতের দৈনিক হিন্দুস্তান টাইমস এ খবর দিয়েছে। 

রোহিঙ্গাদের গ্রামে আগুন দিয়ে বর্বর মিয়ানমার সেনারা

প্রেসিডেন্টের দপ্তরের মুখপাত্র জ হতয় এক বিবৃতিতে বলেন, রাখাইন রাজ্যের তিনটি শহরতলি এলাকায় সর্বমোট ৪৭১টি গ্রাম রয়েছে। এর মধ্যে ১৭৬টি গ্রাম এখন জনমানবশূন্য। অন্য ৩৪টি গ্রাম থেকেও কিছু কিছু রোহিঙ্গা পালিয়েছে। তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে প্রতিবেশী দেশগুলোতে। তবে বিবৃতিতে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি নামটি ব্যবহার করেননি জ হতয়। 

তিনি আরও বলেন, পালিয়ে যাওয়া বাসিন্দারা মিয়ানমারে ফিরতে চাইলে অবশ্যই সবাইকে ফিরে আসার অনুমতি দেওয়া হবে না। যাচাই-বাছাই করতে হবে। এরপরই মিয়ানমার কেবল তাদের গ্রহণ করতে পারে।

 গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী রাখাইনে নিরস্ত্র রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশুদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমার থেকে গত কয়েক সপ্তাহে তিন লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৪