আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেবেন প্রধানমন্ত্রী, শান্তিরক্ষী মোতায়েনের দাবি এরশাদের
-
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের সমস্যা সমাধানের জন্য জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে গঠিত কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘের আসন্ন ৭২তম অধিবেশনে দেয়া বক্তব্যে এ প্রস্তাব দেবেন তিনি।
আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এ তথ্য জানান। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশ নেয়া উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। অধিবেশনে যোগ দিতে ১৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন শেখ হাসিনা।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত তিন সপ্তাহে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা এসেছে, যাদের বেশিরভাগই নারী, শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক। এর আগে থেকে অবস্থান নেয়া চার লাখ রোহিঙ্গার বেশিরভাগই আছে কক্সবাজারে। সব মিলে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশ আজ এক গভীর সংকটের মুখোমুখি। এ প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে বক্তব্য দেয়ার সময় রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের বিষয়টিতে গুরুত্ব দেবেন। আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়ার কথাও বলবেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "এবারের জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবারের সম্মেলন এমন সময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন লাখ লাখ নিরীহ রোহিঙ্গা প্রাণ ভয়ে মিয়ানমার সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। অতীতের যেকোনও সময়ের চেয়ে এখনকার পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর।"
রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের বিবৃতি প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আমরা চেয়েছিলাম নিরাপত্তা পরিষদ এই পরিস্থিতিতে একটা অবস্থান তুলে ধরুক। সেদিক থেকে এই বিবৃতিকে আমরা সময়োপযোগী ও জোরালো বলে মনে করি।"
রাখাইনে শান্তিরক্ষী মোতায়েনের দাবি এরশাদের
এদিকে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর চলমান হত্যা ও নির্যাতন বন্ধে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মোতায়েনের দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দূত, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ।
তিনি বলেন, "মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ওপর যে নির্যাতন চালাচ্ছে তা গণহত্যার শামিল। অবিলম্বে নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। তারা এ বর্বরতা বন্ধ না করলে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করা উচিত।"
আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালীতে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে এরশাদ এ দাবি জানান।
সমাবেশে উপস্থিত রোহিঙ্গাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "রোহিঙ্গাদের দেখলে আমার কান্না পায়। কারণ তাদের যে অবস্থা নিজ চোখে দেখলাম তাতে মনে হয়েছে আজ রোহিঙ্গারা খুবই অসহায়। তাদের খাদ্যের অভাব, থাকার জায়গা নেই। আসলে বলতে গেলে সত্যিই তারা অসহায়। আপনারা নির্যাতিত। যত দিন ফিরে যাবেন না, ততদিন এ দেশের মানুষ আপনাদের পাশে আছে, থাকবে।"
এর আগে, দুপুর পৌনে ১২টার দিকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির ২৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় টিম কক্সবাজারে আসেন। তারা প্রথমে বালুখালী ও পরে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ত্রাণ বিতরণ করেন।#
পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/১৪