হাসিনাকে সুষমার ফোন: রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের পাশে থাকার ঘোষণা
-
শেখ হাসিনা ও সুষমা স্বরাজ
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত হামলা থেকে জীবন ও সম্ভ্রম বাঁচাতে যখন প্রায় চার লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, তখন ঢাকার পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে ভারত।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করে ভারতের অবস্থানের কথা জানান সেদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। পরে প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সুষমা স্বরাজ বলেছেন রোহিঙ্গা নিয়ে বাংলাদেশের যে অবস্থান, ভারতেরও একই অবস্থান।’
নজরুল ইসলাম বলেন, ‘তারা (মিয়ানমার) যেন তাদের শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেয়, সেজন্য ভারতের পক্ষ থেকে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক চাপ দিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন উনি (সুষমা)।’ সুষমা বলেন, ভারতের কথাও হল, রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করতে হবে।
ফোনালাপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেন, শুধু মানবিক কারণে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের নিজ নাগরিক হিসেবে স্বীকার করতে হবে।
শেখ হাসিনা আরো বলেন, তাঁর সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে অস্থায়ী ব্যবস্থা করার জন্য জমি বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু তাদের দীর্ঘ মেয়াদে অবস্থান বাংলাদেশের জন্য অবশ্যই বড় ধরনে সমস্যার সৃষ্টি করবে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে তার দলের নেতা-কর্মীরাও রোহিঙ্গাদের জন্য খাদ্য, আশ্রয় ও স্বাস্থ্যসেবা দিতে দিন-রাত কাজ করছে।
ফোনালাপকালে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রীংলা গণভবনে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সেখানে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী ও মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের।
রোহিঙ্গাদের জন্য ভারতের ত্রাণ হস্তান্তর
এদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুরে রোহিঙ্গা জন্য ভারতের পক্ষ থেকে ৫৩ টন ত্রাণ সামগ্রী হস্তান্তর করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধণ শ্রিংলা।
রোহিঙ্গা সংকটে ভারত বাংলাদেশের পাশে আছে বলে জানিয়ে হর্ষ বর্ধণ শ্রিংলাও বলেন, “বাংলাদেশে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা এসেছে। বাংলাদেশের মতো বহুল জনসংখ্যার দেশে তাদের খাদ্য ও বস্ত্র যোগান দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ। বিষয়টি অনুধাবন করে ভারত সাত হাজার টন ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে। ৫৩ টন পাঠানো হয়েছে। বাকিগুলো ভারতের বিশাখাপত্তম বন্দর থেকে জাহাজে এবং বিমানে করে কয়েকদিনের মধ্যে চট্টগ্রাম আসবে।”
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, “বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম দেশ ভারত। পুরো বিষয়টিতে আমরা বাংলাদেশকে সমর্থন করি। বাংলাদেশ যা করছে ভারত তাকে অত্যন্ত প্রশংসনীয় মনে করছে। তাই রোহিঙ্গাদের জন্য আমাদের যে ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হচ্ছে তার নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ইনসানিয়াত’।”
হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, “বাংলাদেশে যে পরিমাণ রোহিঙ্গা এসেছে তা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি। এরপরও মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিয়েছে। এজন্য আমরা বাংলাদেশকে সাধুবাদ জানাই।”
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি মিয়ানমার সফরের সময় রোহিঙ্গা সমস্যায় ভারত মিয়ানমার সরকারের পাশেই আছে বলে জানান। এছাড়া, ইন্দোনেশিয়ায় এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মিয়ানমার বিরোধী ঘোষণাপত্রে সই করতে অস্বীকার করেছে ভারত। একইসঙ্গে ভারতে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের বের করে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে মোদি সরকার। এর প্রতিক্রিয়ায় মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার জেইদ রা’দ আল হুসেইন নয়াদিল্লির সমালোচনা করে বলেছিলেন, ‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর চলা বর্বর অত্যাচার ও গণহত্যার মধ্যে তাদের আশ্রয় না দিয়ে ভারত থেকে বের করে দেয়ার সিদ্ধান্ত ঠিক নয়।’
জেইদ রা’দ আল হুসেইনের এ মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতের প্রতিনিধি রাজীব কুমার চান্দের মঙ্গলবার বলেছেন, তিনি (আল হুসেইন) ‘পূর্বানুমান-এর ভিত্তিতে ভারতের সমাজকে বিচার করতে চাচ্ছেন। #
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৫