ত্রাণ বিতরণে সমন্বয়হীনতা; সুফল পাচ্ছেন না পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা
মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দমন অভিযান থেকে প্রাণ বাঁচাতে প্রতিদিন বাংলাদেশে ঢুকছে, দেশটির রাখাইন রাজ্যে বসবাসকারী হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম। অভিযান শুরুর পর, ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা। তাদের জন্য খাবার, ওষুধসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা জরুরি বলেই মনে করছে সংস্থাগুলো।
এরই মধ্যে আশ্রয়প্রার্থী রোহিঙ্গাদের জন্য ব্যাপকভাবে ত্রাণ বিতরণ চলছে রোহিঙ্গা আশ্রয় নেয়া এলাকাগুলোতে। বিভিন্ন দেশ, দেশি বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা, রাজনৈতিক দল, সংগঠন এমনকি ব্যক্তি উদ্যোগেও চলছে ত্রাণ বিতরণ। কিন্তু এ কাজে সমন্বয় না থাকায় সুফল পাচ্ছেন না ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গারা।
পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা যে যার মতো এখনও অবস্থান করছেন বিভিন্ন এলাকায়। সবাই ক্যাম্পে স্থান না পাওয়ায়, অনেকে অবস্থান করছেন সীমান্তের কাছাকাছি, কেউ বনে জঙ্গলে আবার কেউ পথের পাশে। ক্যাম্পে আর পথের পাশে থাকা শরণার্থীরা ত্রাণ পেলেও বঞ্চিত হচ্ছেন অন্যরা।
গাড়ি দেখলেই আশায় ছুটে আসছে মানুষ
টেকনাফের প্রত্যন্ত সীমান্ত অঞ্চলে ত্রাণ বিতরণ করেছেন ঢাকার সিনিয়র সাংবাদিক হাসান মাহমুদ। অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, গাড়ি দেখলেই মানুষ ত্রাণের আশায় ছুটে আসছে। কিন্তু ত্রাণ কাজ পরিকল্পিত না হওয়ায়, প্রয়োজন মতো সামগ্রী পাচ্ছেন না অনেকে। ফলে পথের পাশে অনেক স্থানে ত্রাণ সামগ্রী পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এর বিপরীতে প্রত্যন্ত অঞ্চলে খাবারের অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছেন অনেকে। আবার পথ না চেনা এবং পকেটে টাকা না থাকায় ক্যাম্পে যেতে পারছেন না অনেকে। তাই ত্রাণের পাশাপাশি টাকা দেয়া হলে রোহিঙ্গারা সুফল পেত বলেই মনে করেন তিনি।
সমন্বয় না থাকায় প্রকৃত প্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন
টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ বিতরণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স জানান, ত্রাণ কাজ পরিকল্পিত না হওয়ায়, যারা দূর থেকে ত্রাণ দিতে যাচ্ছেন, পছন্দমতো কোন স্থানে ত্রাণ বিতরণ করে ফিরে আসছেন। এতে একই জায়গায় বার বার ত্রাণ বিতরণ হচ্ছে আবার কেউ একবারও ত্রাণ পাননি। ত্রাণ কাজে সমন্বয় না থাকা বা কোথায় ত্রাণ দিতে হবে, এমন নির্দেশনা না থাকাতেই এমনটা হচ্ছে। আবার আগে আসা রোহিঙ্গা আর স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে ত্রাণ নিচ্ছেন। এতে প্রকৃত প্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই ত্রাণ কাজে সমন্বয় ও শৃঙ্খলা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
রুহিন হোসেন প্রিন্স মনে করেন, আশ্রয়প্রার্থী রোহিঙ্গাদের তালিকা করা গেলেই ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করা সহজ হতো। যেহেতু তাদের জন্য সরকার সহায়তা হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, তাই তা করা হবে বলেই আশা করেন তিনি।

ত্রাণ নিয়ে চলছে প্রতারণা
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে, টেকনাফ এলাকায় ত্রাণ বিতরণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন সাংবাদিক হোসাইন মোহাম্মদ নাহিয়ান। তিনি বলেন, ‘ত্রাণের জন্য হাহাকার, আবার ত্রাণ নিয়ে চলছে প্রতারণা। সামান্য একটু খাবারের জন্য মানুষগুলোর কতই না চেষ্টা, গাড়ি দেখলেই দৌড়ে যাচ্ছে, এই বুঝি কেউ খাবার নিয়ে এসেছে তাদের জন্যে, কেউ পাচ্ছে তো কেউ পাচ্ছে না, পাবেই বা কিভাবে, কারণ স্থানীয় বেশ কিছু জনতাকে রোহিঙ্গাদের সাথে ত্রাণ নিতে দেখা গেছে এবং সৃষ্টি করছে বিশৃংখলা। ফলে রোহিঙ্গারা ত্রাণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই যারা ত্রাণ দিতে আসছেন স্থানীয়দের সহযোগিতা নিয়ে ত্রাণ বিতরণ করলে সবাই সঠিকভাবে ত্রাণ পাবে’।#
পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/১৫