উখিয়ায় ১৪ হাজার আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির সিদ্ধান্ত, ভেসে এল রোহিঙ্গা নারীর লাশ
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i45971-উখিয়ায়_১৪_হাজার_আশ্রয়কেন্দ্র_তৈরির_সিদ্ধান্ত_ভেসে_এল_রোহিঙ্গা_নারীর_লাশ
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য আরো নতুন ১৪ হাজার আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশ। মিয়ানমার সীমান্তের পাশে কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের পাশে ২ হাজার একর (৮০০ হেক্টর) জমিতে একটি বিশাল ক্যাম্প তৈরি করা হবে।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৭ ১২:৫৪ Asia/Dhaka
  • উখিয়ায় ১৪ হাজার আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির সিদ্ধান্ত, ভেসে এল রোহিঙ্গা নারীর লাশ

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য আরো নতুন ১৪ হাজার আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশ। মিয়ানমার সীমান্তের পাশে কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের পাশে ২ হাজার একর (৮০০ হেক্টর) জমিতে একটি বিশাল ক্যাম্প তৈরি করা হবে।

বাংলাদেশের দুর্যাগ ব্যবস্থাপনা সচিব শাহ কামাল জানান, ৪ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য ১৪ হাজার আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ১০ দিনের মধ্যে এসব আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি আশ্রয় শিবিরে ছয়টি রোহিঙ্গা পরিবারের ঠাঁই হবে। সেখানে যথাযথ সেনিটেশন, পানি ও চিকিৎসা সুবিধার ব্যবস্থা থাকবে। এজন্য বাংলাদেশ সরকারকে জাতিসংঘের সহযোগিতা নিতে হবে।

সহিংসতায় যেসব রোহিঙ্গা শিশু তাদের বাবা-মাকে হারিয়েছে অথবা একাকী বাংলাদেশে ঠাঁই নিয়েছে সরকারের সমাজকল্যাণ সংস্থা তাদের দেখাশোনা করবে বলেও জানান শাহ কামাল।

জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য মতে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সহিংসতায় গত ২৫ আগস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশ ঠাঁই নিয়েছে।

রোহিঙ্গা মুসলমানরা বাংলাদেশে আসার পথে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হাতে খুন, ধর্ষণ ও নির্যাতনের মতো ঘটনার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকদিন ধরে হেঁটে আসা বেশির ভাগ রোহিঙ্গা এখন অসুস্থ, অবসন্ন। তারা এখন খাদ্য, পানি ও নিরাপদ আশ্রয়ের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানায় জাতিসংঘ ত্রাণ সংস্থা।

টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে রোহিঙ্গারা

আরও এক রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার

মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের নির্যাতন থেকে প্রাণে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পথে আরও এক রোহিঙ্গা নারী প্রাণ হারিয়েছে। এ নিয়ে গত ২৯ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরে ২৩টি নৌকাডুবির ঘটনায় ১১২ জনের লাশ উদ্ধার করা হল। এর মধ্যে শিশু ৫৭টি, নারী ৩২ জন, পুরুষ ২৩ জন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ১০টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর মাযেরপাড়া সাগরসৈকতে ভেসে আসার এক রোহিঙ্গা নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশটিতে পচন ধরায় দ্রুত দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,  বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ও বেলা ১টার দিকে শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমপাড়া সৈকতে সাগরে অতিরিক্ত রোহিঙ্গাবোঝাই দুটি নৌকাডুবি হয়।

মিয়ানমারে নির্যাতনের হাত থেকে পালিয়ে শাহপরীর দ্বীপের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে নৌকায় করে প্রতিদিন রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পৌঁছাচ্ছে।

টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েকজন অসাধু মাঝি টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ করাচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি তাদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। যারা নদী ও সাগর পার হয়ে ঢুকে পড়েছে, তাদের একত্র করে স্থায়ীভাবে টেকনাফের হোয়াইকং পুটিবুনিয়া অস্থায়ী ক্যাম্পে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয়েছে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ

আন্তর্জাতিক বিশ্ব মিয়ানমারকে ধিক্কার দিচ্ছে: তোফায়েল

ওদিকে, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ বলেছেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্ব আজ তাদের ধিক্কার দিচ্ছে। গ্রামের পর গ্রাম তারা পুড়িয়ে দিচ্ছে। বৃদ্ধ, যুবক, নারীদের পুড়িয়ে মারা হচ্ছে। এটা হতে পারে না।

আজ (শনিবার) দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এক অনুষ্ঠানে তোফায়েল আহমদ

বলেন, ‘আমরা ১৬ কোটি মানুষের দেশ, অতি ঘনবসতিপূর্ণ। কিন্তু আমাদের হৃদয় আছে। আমাদের মন আছে। এসব দেখে আমাদের একাত্তরের স্মৃতি ভেসে ওঠে। কীভাবে আমাদের মা-বোন সেদিন ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল। সুতরাং  মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করে এদের (রোহিঙ্গা) আমরা আজকের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়েছি। আমরা মনে করি অনতিবিলম্বে মিয়াঁনমারে গণহত্যা বন্ধ করা উচিত।’#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৬