রোহিঙ্গাদের মাঝে কাজ করতে সেনাবাহিনীর প্রতি শেখ হাসিনার নির্দেশ
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i46235-রোহিঙ্গাদের_মাঝে_কাজ_করতে_সেনাবাহিনীর_প্রতি_শেখ_হাসিনার_নির্দেশ
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ও শরণার্থীশিবির নির্মাণে কাজ করতে সেনাবাহিনীর প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৭ ১৪:৪২ Asia/Dhaka
  • রোহিঙ্গাদের মাঝে কাজ করতে সেনাবাহিনীর প্রতি শেখ হাসিনার নির্দেশ

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ও শরণার্থীশিবির নির্মাণে কাজ করতে সেনাবাহিনীর প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ (বুধবার) বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ কথা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কক্সবাজারে মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকায় শিগগির সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে। গত ২৫ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত সেখানে প্রায় চার লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। সেনাসদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসনে সহযোগিতা করবেন।

সেতুমন্ত্রী বলেছেন, রোহিঙ্গাদের থাকার জন্য আশ্রয়ণ নির্মাণ খুবই কষ্টকর কাজ। তাদের জন্য আশ্রয় এবং শৌচাগার নির্মাণ নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর প্রয়োজন রয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি

'একজন রোহিঙ্গাও না খেয়ে মরবে না'

ওদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি ঘোষণা দিয়েছেন, সীমান্তে আশ্রয় নেয়া একজন রোহিঙ্গাও না খেয়ে মরবে না।

আজ (বুধবার) সকাল ১১টায় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত রোহিঙ্গা শরণার্থী বিষয়ক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীর বাহাদুর বলেন, ‘মিয়ানমার আর্মির নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচার জন্য বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা আমাদের মেহমান। তারা আমাদের শরণার্থী একথা সবাইকে মনে রাখতে হবে। বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের কক্সবাজারের উখিয়া কুতুপালং, বালুখালী ও ঠ্যাংগাখালী এলাকায় নিরাপদে রাখতে সরকার ইতোমধ্যে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। এটার একটা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারা এই নির্ধারিত জায়গায় নিরাপদে থাকবে।’

বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

'রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতীয় ঐক‌্য প্রয়োজন'

এদিকে, বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধান করা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এই ইস্যুতে জাতীয় ঐক‌্য প্রয়োজন।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, 'রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন, রাশিয়া, ভারতের পদক্ষেপ বাংলাদেশ জন্য নেতিবাচক। সেজন‌্য রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিগতভাবে একসুরে কথা বলতে হবে।’

২১ সেপ্টেম্বর টেকনাফ অভিমুখে রোডমার্চ

তাছাড়া, সাম্প্রতিককালে নজিরবিহীন গণহত্যা ও নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গাদের পক্ষে জনমত সৃষ্টির জন্য ‘হিউম্যানিটি ফর রোহিঙ্গা, বাংলাদেশ’ সংগঠনের পক্ষ থেকে টেকনাফ অভিমুখে রোডমার্চ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

আগামী ২১ সেপ্টেম্বর সিলেট থেকে এ রোডমার্চ শুরু হবে।

আজ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক সংবাদ সম্মেলনে ‘হিউম্যানিটি ফর রোহিঙ্গা’ সংগঠনের নেতারা এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

সংগঠনের উপদেষ্টা, সাবেক মন্ত্রী মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা উত্তরণে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। ইতোমধ্যেই মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ১৭ বার আমাদের আকাশসীমা লংঘনের দুঃসাহস দেখালেও বাংলাদেশের দিক থেকে দুর্বল মৌখিক প্রতিবাদ ছাড়া আর কোনো নড়াচড়া আমরা দেখতে পাইনি।

রোহিঙ্গাদের পক্ষে দেশে এবং বিশ্বব্যাপী বিপুল জনমতকে পুঁজি করে আন্তর্জাতিকভাবে মিয়ানমারের উপর গণহত্যা বন্ধে চাপ সৃষ্টি এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে তাদের দেশে ফিরিয়ে নেয়া এবং পুনর্বাসনের জন্য সরকারকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়েছন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২০