মিয়ানমারের নিরাপত্তা উপদেষ্টার দাবি নির্জলা মিথ্যা: অধ্যাপক শাহীদুজ্জামান
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i46739-মিয়ানমারের_নিরাপত্তা_উপদেষ্টার_দাবি_নির্জলা_মিথ্যা_অধ্যাপক_শাহীদুজ্জামান
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে হত্যা, নির্যাতন, গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া, নারী নির্যাতনসহ নানা অপরাধের প্রমাণ একের পর এক হাজির করছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা। এরপরও অভিযোগ অস্বীকার করে চলছে দেশটির সরকার। তাদের দাবি, মিয়ানমারে কোন জাতিগত নিধন বা গণহত্যার মতো ঘটনা ঘটেনি।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৭ ১৬:৫৯ Asia/Dhaka

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে হত্যা, নির্যাতন, গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া, নারী নির্যাতনসহ নানা অপরাধের প্রমাণ একের পর এক হাজির করছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা। এরপরও অভিযোগ অস্বীকার করে চলছে দেশটির সরকার। তাদের দাবি, মিয়ানমারে কোন জাতিগত নিধন বা গণহত্যার মতো ঘটনা ঘটেনি।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ডাকা বৈঠকে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা উ থাং টুন অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, মিয়ানমারে কোন জাতিগত নিধন বা গণহত্যার মতো ঘটনা ঘটেনি। রাখাইনে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। বর্তমানে সরকার যে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে সেটা ধর্মীয় নয়, সন্ত্রাসবাদের কারণে।  

মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা উ থাং টুন 

মিয়ানমারের নিরাপত্তা উপদেষ্টার এমন দাবিকে নির্জলা মিথ্যা বলছেন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক, অধ্যাপক এম শাহীদুজ্জামান। তিনি আরও বলেন, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা হত্যা ও নির্যাতনের বিষয়ে একের পর এক প্রমাণ হাজির করছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা। নারীদের ওপর নির্যাতনের প্রমাণও হাজির করা হয়েছে। অপরাধ অস্বীকারের মাধ্যমে তারা নিজেদের অপরাধ ঢাকার চেষ্টা করছে। সার্বিয়াতেও গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করা হতো। কিন্তু তাদের বিচার হচ্ছে। আর এখন প্রযুক্তি অনেক উন্নত। বিভিন্ন প্রমাণ পাওয়া গেছে। আর এজন্য শুধু বাংলাদেশই নয়, ভারতও জানে কিভাবে হিন্দু রোহিঙ্গারা রাখাইনে হত্যা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাই মিয়ানমারের অপরাধ প্রমাণ সময়ের ব্যাপার মাত্র। আর অপরাধ অস্বীকার করে দেশটির নিরাপত্তা উপদেষ্টা নিজেদের অপরাধের ভয়াবহতা ও উন্মক্ততারই আরেকটি প্রমাণ দিয়েছেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস

বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের শুরুতে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মিয়ানমার থেকে প্রায় অর্ধ মিলিয়ন রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। যাতে মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে। এটা চরমপন্থাকে উস্কে দিতে পারে। আর এই জনগোষ্ঠীর ওপর হত্যা, অগ্নিসংযোগ, মাইন পুতে রাখা, যৌন সহিংসতার মতো ঘটনা ঘটেছে। উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের দূত নিকি হ্যালিও।

এদিকে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের চলমান নির্যাতনের মুখে প্রাণভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা পাঁচ লাখ ছাড়িয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংগ্রহ করা তথ্যের ভিত্তিতে আইওএম’র নেতৃত্বাধীন ইন্টার সেক্টর কোঅর্ডিনেশন গ্রুপ (আইএসসিজি) জানিয়েছে, ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রবেশ করা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা পাঁচ লাখ এক হাজার ৮০০জন। তবে আইওএম বলছে, কক্সবাজারের চার উপজেলায় নিজেদের মতো আশ্রয় তৈরি করে টিকে আছে চার লাখ ৪৮ হাজার ১০০ রোহিঙ্গা।#

পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/২৯