সাতক্ষীরায় ভারত থেকে আসা ১৯ রোহিঙ্গা আটক, কঠোর অবস্থানে দিল্লি
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i47303-সাতক্ষীরায়_ভারত_থেকে_আসা_১৯_রোহিঙ্গা_আটক_কঠোর_অবস্থানে_দিল্লি
বাংলাদেশের সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে আসা ১৯ রোহিঙ্গাকে আটক করেছে বিজিবি। আটকদের মধ্যে ১০ শিশু, ছয় নারী ও তিন পুরুষ রয়েছে।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
অক্টোবর ১১, ২০১৭ ০৮:৩১ Asia/Dhaka
  • বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ঢল
    বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ঢল

বাংলাদেশের সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে আসা ১৯ রোহিঙ্গাকে আটক করেছে বিজিবি। আটকদের মধ্যে ১০ শিশু, ছয় নারী ও তিন পুরুষ রয়েছে।

আজ (বুধবার) ভোরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পদ্মশাকরা সীমান্তে পৌঁছামাত্র ওই তাদেরকে আটক করা হয়।

বিজিবির পদ্মশাকরা তল্লাশিচৌকির (বিওপি) কমান্ডার সুবেদার মোশাররফ হোসেন জানান, ওই রোহিঙ্গারা ভারত থেকে দেশটির সীমান্তরক্ষাকারী বাহিনী বিএসএফের সহায়তায় বাংলাদেশে আসে। এর আগে ২০১২ ও ২০১৪ সালে দুই দফায় তারা মিয়ানমার থেকে ভারতের দিল্লিতে গিয়েছিল। এর পর থেকে সেখানেই বসবাস করে আসছিল। কিন্তু সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় এবং খাদ্য, বস্ত্র ও চিকিৎসা দিচ্ছে বলে খবর পেয়ে তারা দিল্লি থেকে বাংলাদেশে চলে এসেছেন। তাদেরকে সাতক্ষীরা সদর থানায় সোপার্দ করা হয় বলে জানান বিজিবির ওই কর্মকর্তা। 

সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফ এনামুল হক জানান, আটকরা বেশ ক্লান্ত। তাঁদের খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার কলারোয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে ১৩ জন এবং ৩ অক্টোবর কলারোয়ার হিজলদী সীমান্ত থেকে আরো সাত রোহিঙ্গাকে আটক করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর ভারত

এদিকে, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আরও কঠোর মনোভাব নিচ্ছে ভারত। মিয়ানমার সীমান্তের পাশাপাশি বাংলাদেশ দিয়েও যাতে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা ভারতে ঢুকতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।

উত্তর–পূর্ব ভারতের আসাম রাজ্যের সঙ্গে মিয়ানমারের এক ইঞ্চিও সীমান্ত নেই। তবু সতর্ক রয়েছে রাজ্যটি। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে (বিএসএফ) সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। নৌ ও স্থলে সার্বক্ষণিক টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ইম্ফলে মিজোরামের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আর লালজিরিলিডিয়ান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তাঁদের রাজ্যে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ রুখতে সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সীমান্তে চলছে কড়া নজরদারি। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৭০ জন আরাকান শরণার্থীকে আবার ফেরত পাঠিয়েছে প্রশাসন।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের নজরদারি

অন্যদিকে, ভারতে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ রুখতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কঠোর নজরদারি শুরু করেছে বিএসএফ। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পক্ষ থেকে ৫০টি স্পর্শকাতর স্থান চিহ্নিত করে সেসব এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

৫ অক্টোবর  বিএসএফের মহাপরিদর্শক (দক্ষিণবঙ্গ) পি এস আর আনাজানেয়ুলু জানান, ‘আগে আমরা এমন ২২টি স্পর্শকাতর এলাকা চিহ্নিত করেছিলাম। এখন সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ৫০ করা হয়েছে। এসব এলাকায় নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।’

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়া জেলায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে স্পর্শকাতর এলাকা চিহ্নিত করেছে বিএসএফ। কম সুরক্ষিত জায়গাগুলোর মধ্যে পেট্রাপোল, জয়ন্তীপুর, হরিদাসপুর, গোয়ালপাড়া ও তেঁতুলবেড়িয়া অন্যতম।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১১