রাখাইনে প্রাণের স্পন্দন নেই, থামছে না মিয়ানমার সেনা প্রধানের মিথ্যাচার
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i47387-রাখাইনে_প্রাণের_স্পন্দন_নেই_থামছে_না_মিয়ানমার_সেনা_প্রধানের_মিথ্যাচার
মিয়ানমারের রাখাইনে নতুন করে শুরু হওয়া সহিংসতার মুখে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসার প্রবণতা গত কয়েক দিন ধরেই বাড়ছে।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
অক্টোবর ১২, ২০১৭ ১৭:২০ Asia/Dhaka

মিয়ানমারের রাখাইনে নতুন করে শুরু হওয়া সহিংসতার মুখে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসার প্রবণতা গত কয়েক দিন ধরেই বাড়ছে।

জাতিসংঘ শরনার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর), আর্ন্তজাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও ৪৭ সাহায্য সংস্থার জোট ইন্টার সেক্টর কোঅর্ডিনেশন গ্রুপ (ইএসসিজি) বলছে, হঠাৎ করেই গত এক সপ্তাহ’রও বেশি সময় ধরে গড়ে প্রতিদিন বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা সংখ্যা দুই হাজার থেকে বেড়ে ১১ হাজারে উঠেছে। গত তিন দিনে কেবল আনজুমান পাড়া ও শাহপরীর দ্বীপ দিয়েই অনুপ্রবেশ করেছে ২৫ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা।

মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও রাখাইন মগদের পরিকল্পিত ও যৌথ নির্যাতনের মাধ্যমে চালানো জাতিগত নিধন, গণহত্যা, গণধর্ষণ থেকে বাঁচতে এরইমধ্যে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বুধবার তেলের জারিকেন নিয়ে টানা সাড়ে তিন ঘণ্টা সাঁতরে তিন কিলোমিটার নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশ পালিয়ে আসেন ১১ যুবক ও কিশোর। উপকূল রক্ষী বাহিনী বা কোস্টগার্ডকে তারা জানান, এখনো লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য নাফ নদী ও সাগরপাড়ে অপেক্ষায় রয়েছে। নাফ নদীতে নৌকা সংকটের কারণে তারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে পারছে না।

'প্রাণের কোনো স্পন্দন নেই'

এদিকে, আইওএম’র এর হিসাব মতে, গত সোমবার থেকে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। আর জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, কেবল নদী ও সাগর পাড়েই নৌকার জন্য অপেক্ষা করছে ৯১ হাজার রোহিঙ্গা।

গত ২৫ আগস্টের পর থেকে চালানো সেনা ও মগদের সহিংসতায় উত্তর রাখাইনের বেশিরভাগ গ্রামই এখন স্তব্ধ হয়ে গেছে। সেখানে কোন কোলাহল নেই। গ্রামের পর গ্রামে কেবল ধ্বংস চিহ্ন। প্রাণের কোনো স্পন্দন নেই। মগদের লাগানো আগুনে পুড়ে ও ঝলসে যাওয়া গাছগুলোতে পাখিও বসছে না বলে প্রত্যক্ষ্যদর্শীরা।

মিয়ানমার থেকে সদ্য পালিয়ে আসা আবু ফাইয়াজ জানান, মিয়ানমারের সেনারা তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেছে। মাইকিং করে দেশ ছাড়তে বলা হচ্ছে, দেশ না ছাড়লে বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া ও হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে। তাই জীবন বাঁচাতে সবকিছু ফেলে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন তারা।

অং সান সু চি'র সঙ্গে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের করমর্দন

রোহিঙ্গারা বাঙালি: সেনাপ্রধানের দাবি

ওদিকে, মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইয়াং বলেছেন, রোহিঙ্গা মুসলিমরা মিয়ানমারের জনগোষ্ঠী নয়। আর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংখ্যা গণমাধ্যম 'অতিরঞ্জিত' করে প্রকাশ করা হয়েছে।

মিয়ানমারে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত স্কট মার্সিয়েলের সঙ্গে আজ (বৃহস্পতিবার) এক বৈঠকে বসেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান। এরপর সেই আলোচনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের পেজে পোস্ট দেন মিন।

তবে সেনা সদস্যদের দ্বারা রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিষয়ে ওই বৈঠকে তিনি কোনো কথা বলেননি বলে জানা গেছে। এমনকি মিন অং হ্লাইয়াং রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ বলে মন্তব্য করে বলেন, তারা মিয়ানমারের জন্য ক্ষতিকর।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল

রাখাইনে যেতে চান বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অন্যদিকে, মিয়ানমান সফরে গিয়ে রাখাইন রাজ্য পরিদর্শনে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেন, সেখানে যাওয়ার পর রাখাইন রাজ্য পরিদর্শন করতে অনুমতি চাইবো। অনুমতি পাওয়া গেলে রাখাইন রাজ্য পরিদর্শন করব।

আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আগামী ২৩ অক্টোবর ৯ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে তিনদিনের মিয়ানমার সফরে যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সফরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানান তিনি।#

পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/১২