রোহিঙ্গা সংকট: জর্ডানের রানি ঢাকায়, মিয়ানমারে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাড়াবাড়ি বা ঝগড়াঝাটি করে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। ধৈর্য ধরে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। আজ (সোমবার) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠকে তিনি এ কথা জানান।
মিয়ানমারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
এদিকে, দশ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুর বোঝা মাথায় নিয়ে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল আজ দুপুরে মিয়ানমারে পৌঁছেছেন। তার সফরকালে বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর ছাড়াও রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কথা হবে। আনুষ্ঠানিক বৈঠকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেবে বাংলাদেশ।
সরকারি সূত্র বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরকালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্তপথে অনুপ্রবেশ, মানবপাচার ও মাদকপাচার রোধে সীমান্তে লিয়াজোঁ অফিস স্থাপনের বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া, সীমান্তে প্রাচীর তৈরি নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা ও দুই দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা বিষয়ে যোগাযোগ ও সংলাপ আয়োজন নিয়ে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর সই করবে দুই দেশ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মিয়ানমার সফর প্রসঙ্গে সিপিবি কেন্দীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, শুধু দ্বিপাক্ষিক আলাপ আলোচনার মাধমে সংকটের সমাধান হবে না। এ জন্য আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে অব্যাহত চাপ রাখতে হবে এবং মিয়ানমারকে বাধ্য করতে হবে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে।
রোহিঙ্গাদের পাশে বিশ্ববাসীর দাঁড়ানো উচিত: জর্ডানের রানি
এদিকে, জর্ডানের রানি রানিয়া আল আবদুল্লাহ আজ কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করে বলেছেন, ন্যায় বিচারের স্বার্থে রোহিঙ্গাদের পাশে বিশ্ববাসীর দাঁড়ানো উচিত।
ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির (আইসিআর) পর্ষদ সদস্য ও জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থাগুলোর একজন দূত হিসেবে জর্ডানের রানি রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে এসেছেন। তিনি তার অভিজ্ঞতার কথা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরবেন যাতে দুর্দশায় থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য জরুরি সহায়তার পরিমাণ দ্রুত বাড়ানো সম্ভব হয়।
সোমবার উখিয়ার কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গাদের দেখতে এসে রানি বলেন, “রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর পরিচালিত এই জাতিগত নিধন বিশ্বের সবচেয়ে জঘন্যতম, বর্বরতম ঘটনা। এই গণহত্যার বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীকে স্বোচ্চার হতে হবে।”
এ আগে গতরাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। এ সময় রোহিঙ্গা সংকটসহ দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয়। রোহিঙ্গারা একসময় বাংলাদেশের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে, তাদের অবশ্যই মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে হবে বলে উল্লেখ করেন সুষমা স্বরাজ।
রাখাইন কর্তৃপক্ষকে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা করবে ভারত
এছাড়া, গতকাল ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে সুষমা স্বরাজ বলেছেন, ‘রাখাইন রাজ্যে দ্রুত আর্থ সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন ওই এলাকার বাসিন্দাদের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, আর এটাই হবে সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।’ তিনি জানান, এরই অংশ হিসেবে কিছু প্রকল্পে রাখাইন রাজ্যের স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা করবে ভারত।

রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে জেনেভায় সম্মেলন
অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কুয়েতের উদ্যোগে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আজ জেনেভায় একটি প্রতিশ্রুতি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ইউনাইটেড নেশনস অফিস ফর দ্য কো-অর্ডিনেশন অব হিউম্যানিটেরিয়ান এ্যাফেয়ার্স (ওসিএইচএ), দ্য ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) ও ইউএন হাইকমিশনার ফর রিফিউজি (ইউএনএইচসিআর)-এর অংশগ্রহনে এ সম্মেলনে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট নিরসন পরিকল্পনায় ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১২ লাখ মানুষের সাহায্যে ৪৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে এক তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এটা দিয়ে প্রয়োজনের মাত্র সিকি ভাগ (২৬ শতাংশ) মিটবে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৩