রোহিঙ্গা সংকট: বাংলাদেশ-মিয়ানমারের সংলাপে মধ্যস্থতার প্রস্তাব চীনের
-
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই
রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সংলাপে সহযোগিতা করতে আগ্রহের কথা জানিয়েছে চীন। আজ (শনিবার) সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে এই আগ্রহের কথা জানান সফররত চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম একথা জানান বলে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) খবরে বলা হয়েছে।
চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ। অথচ এটা মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা, যা বাংলাদেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ সংকট নিরসনে আমরা বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সংলাপে সহযোগিতা করতে আগ্রহী।’
রোহিঙ্গা সঙ্কটের অবসানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের থার্ড কমিটিতে বৃহস্পতিবার প্রস্তাব পাস হওয়ার দুদিন পর চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে এসেছেন। ওই প্রস্তাবে অবিলম্বে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর অভিযানের ইতি টানতে এবং রোহিঙ্গাদের পূর্ণ অধিকার দিয়ে নাগরিকত্ব দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রস্তাবটি নিয়ে ভোটাভুটিতে ১৩৫টি দেশ এর পক্ষে ভোট দেয়, বিপক্ষে যে ১০টি দেশ ভোট দিয়েছিল তার মধ্যে চীনও ছিল। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকেই মিয়ানমারে যাবেন। সোম ও মঙ্গলবার নেপিডোতে এশিয়া ও ইউরোপীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে তার।
বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর (বিসিআইএম-ইসি) সম্পর্কে আলাপকালে ওয়াং ইবলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার কারণে চার জাতির উদ্যোগের গতি মন্থর হোক তা চীন চায় না।
বৈঠকে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে দেশটির ওপর চাপ বৃদ্ধির জন্য চীনসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি পুনরায় আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য মিয়ানমারকে তার দেশের নাগরিকদের নিরাপদে, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে ফিরিয়ে নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু রোহিঙ্গারা তাদের লোক এবং তাদেরকে ফিরিয়ে নিতে হবে।’
রোহিঙ্গাদের বিশেষ করে নারী ও শিশুদের দুরবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ তাদের মানবিক বিবেচনায় আশ্রয় দিয়েছে।
সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জিরো টলারেন্স নীতি পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশগুলোতে বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা চালানোর জন্য কাউকে বাংলাদেশের ভূ-খণ্ড ব্যবহার করতে না দেয়া আমাদের সিদ্ধান্ত।’
বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ফজলুল করিম ও বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত মা মিংকিয়াং উপস্থিত ছিলেন।#
পার্সটুডে/এআর/১৯