রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মধ্যস্থতার আগ্রহ চীনের, প্রতিক্রিয়া ড. রিপনের
রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সংলাপে সহযোগিতার ব্যাপারে চীন তার আগ্রহের কথা জানিয়েছে ঢাকাকে। দু'দিনের সফরে এসে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই গতকাল (শনিবার) সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে এই আগ্রহের কথা জানান।
এ আগে গতকাল বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সাথে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমারের সাথে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতায় পৌঁছাতে বাংলাদেশকে সব ধরনের সহায়তা দেয়ার নিশ্চয়তা দেন।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই পরিষ্কার করে জানিয়েছেন, জাতিসংঘকে দিয়ে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে না। এ সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে করতে হবে।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা সফর শেষে এশিয়া-ইউরোপ বৈঠকে (আসেম) যোগ দিতে আজ রোববার সকালে মিয়ামারের রাজধানী নেপিডো পৌঁছেছেন। সে বৈঠকে যোগ দিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী আজ রাতে নেপিডোতে যাচ্ছেন। এই বৈঠকে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছে।
আগামী ২০ ও ২১ নভেম্বর আসেম সম্মেলনে যোগ দেয়ার পথে ইইউ'র পররাষ্ট্রমন্ত্রী (হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ) ফেডিরিকা মোঘেরিনি, জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েল, সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারগট ওয়ালস্টার ও জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো আজ সকালে ঢাকা এসে পৌঁছেছেন। বিকেলে তার কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।
বাংলাদেশ আশা করছে, আন্তর্জাতিক মহলের চাপে মিয়ানমার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে চলতি সপ্তাহে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে।
আগামী ২২ ও ২৩ নভেম্বর মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে অনুষ্ঠেয় দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে শর্তাবলির খুঁটিনাটি নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতার পর চুক্তিটি সই হবে। তাছাড়া চুক্তি বাস্তবায়নে দুই দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হবে বলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
তবে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সেক্রেটারি ইউ কিইয়াও জেয়া আগেই জানিয়েছেন, চারটি শর্তে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে নেইপিডো নীতিগতভাবে সম্মত রয়েছে। শর্তগুলো হলো: মিয়ানমারে দীর্ঘ দিন বসবাসের প্রমাণপত্র দেখাতে হবে, পরিবারের কেউ রাখাইন রাজ্যে রয়েছেন এমন প্রমাণ দেখাতে হবে, বাংলাদেশে জন্ম নেয়া শিশুর বাবা-মা উভয়কেই মিয়ানমারের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে প্রমাণ দিতে হবে এবং রাখাইনে স্বেচ্ছায় ফিরে আসার ইচ্ছা ব্যক্ত করতে হবে।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের আশ্বাস প্রসঙ্গে বিএনপি’র সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং ইংরেজী ম্যাগাজিন দ্য ডিপ্লোম্যাট অ্যান্ড গ্লোবাল-এর সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন রেডিও তেহরানকে বলেন, ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার-এদের কাউকেই চীন হাতছাড়া করতে চায় না। এ অঞ্চলে বাইরের কোনো শক্তি এসে মোড়লীপনা করুক তাও চায় না চীন। এ ক্ষেত্রে চীনের সহায়তা নিয়ে বাংলাদেশ তার কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে কত বেশী আদায় করতে পারে সেটাই দেখার বিষয়। তবে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতায় রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে না, এটা বাংলাদেশকে বুঝতে হবে।
এদিকে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর কাজটি কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
আজ সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত জও তাবাজোরা ডি. ওলিভেইলা জুনিয়র।
সাক্ষাৎ শেষে তোফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এখনও বিশ্বাস করি বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতায় রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে মিয়ানমার, তবে কাজটি বেশ কঠিন।বিশ্বের অনেক দেশই এমন কথা বলেছে।’#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৯