বাংলাদেশে ম্যালেরিয়া রোগী ২৯ হাজার, ৯৩ ভাগই ৩ পার্বত্য জেলায়
বাংলাদেশে ম্যালেরিয়া নির্মূলে সাফল্য আশাব্যঞ্জক হলেও বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি এই তিন জেলায় এখনও ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি বেশি।
জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ২৯ হাজার ২৪৭ জন ম্যালেরিয়ার রোগী রয়েছে। এদের ৯৩ ভাগ রোগীই রয়েছে তিন পার্বত্য জেলার। বিশেষত সীমান্তবর্তী পাহাড়, বেশি বৃষ্টিপাত, বনাঞ্চলবেষ্টিত হওয়া, অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও সেবাদানজনিত সমস্যার কারণে এ ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে।
বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস পালন উপলক্ষে আজ (বুধবার) এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ।
দিবসটি উপলক্ষে আজ সকাল ৮টায় একটি র্যালি রাজধানীর জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে সিরডাপের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এছাড়া সিরডাপ মিলনায়তনে সকাল সাড়ে ১১ টায় একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১৩টি জেলায় ৭১টি উপজেলা এখনো ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব আছে। জেলাগুলো হচ্ছে: রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, শেরপুর এবং কুড়িগ্রাম। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ম্যালেরিয়া মুক্ত ঘোষণা করা হবে। সে লক্ষ্যেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কাজ করছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দাবি করছে, জনসচেতনতা এবং সরকারের সহযোগিতায় বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগের কারণেই ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত মৃত্যুর সংখ্যা কমে এসেছে। ২০১৪ সালে যেখানে ম্যালেরিয়ায় মারা যান ৪৫ জন, ২০১৫ সালে এই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৯ জনে। ২০১৬ সালে এই রোগে ১৭ জন মারা গেলেও পরের বছর মারা গেছেন ১৩ জন।
দেশে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকার জনগোষ্ঠীর মধ্যে এ পর্যন্ত ৯১ লাখ ৩০ হাজার দীর্ঘস্থায়ী কীটনাশকযুক্ত মশারি বিতরণ করা হয়েছে। আক্রান্ত এলাকায় ম্যালেরিয়া মুক্তকরণ কার্যক্রম জোরালো হয়েছে। তারপরও ২০১৭ সালে মোট ২৯ হাজার ২৪৭ জন ম্যালেরিয়া রোগি শনাক্ত করে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ১৩ জন মারা গেছে।
দেশে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে সাফল্যের দাবি করে চট্টগ্রাম বিভাগের স্ব্যাস্থ্য পরিচালক ডা. আলাউদ্দিন মজুমদার রেডিও তেহরানকে জানান, পার্বত্য জেলাগুলিতে এখনও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ রয়েছে তবে মৃত্যুর হার অবশ্যই কমে গেছে। আগে যেখানে বছরে কয়েকশ’ মানুষ মারা যেতো, এখন সেখানে অল্প মানুষ মারা যাচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য মৃত্যুর হার শূন্যে নামিয়ে আনা। ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ কমাতে ভালো ভূমিকা রাখছে কীটনাশকযুক্ত মশারি।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা- ‘এসডিজি’র শর্ত অনুসারে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে ম্যালেরিয়া নির্মূল করতে হলে আমাদের ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ ম্যালেরিয়া প্রকোপ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে হবে। একই সঙ্গে পরপর তিন বছর এ অবস্থা ধরে রাখতে হবে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৫