রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে জাতিসংঘের সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছে মিয়ানমার
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i58216-রোহিঙ্গা_প্রত্যাবাসন_ইস্যুতে_জাতিসংঘের_সঙ্গে_চুক্তি_করতে_যাচ্ছে_মিয়ানমার
বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা এবং রাখাইনে বসবাসের জন্য ‘অনুকূল পরিবেশ তৈরি’র বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করতে যাচ্ছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপি।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
জুন ০১, ২০১৮ ০৮:৪০ Asia/Dhaka
  • রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে জাতিসংঘের সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছে মিয়ানমার

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা এবং রাখাইনে বসবাসের জন্য ‘অনুকূল পরিবেশ তৈরি’র বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করতে যাচ্ছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপি।

রোহিঙ্গারা যাতে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং সম্মানের সঙ্গে নিজেদের ভূমিতে ফিরতে পারে এবং প্রত্যাবাসন যাতে স্থায়ী হয় তার অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সহায়তার বিষয়ে একটি ‘ফ্রেমওয়ার্ক’ তৈরি করা হবে এই সমঝোতা স্মারকের আওতায়।

সমঝোতা স্মারকে কী থাকবে সে বিষয়ে বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের রাজধানী নাইপিদোতে দেশটির সরকারের সঙ্গে দুই সংস্থার মতৈক্য হয়েছে বলে ইউএনএইচসিআর’র এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি এখনও রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ফেরার জন্য সহায়ক না হওয়ায়, ওই অবস্থার পরিবর্তনের জন্য সরকারের উদ্যোগে সহযোগিতা করতে এই সমঝোতা স্মারক প্রথম ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

সমঝোতা স্মারক সইয়ের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি জানিয়ে ইউএনএইচসিআর বলছে, আগামী সপ্তাহেই এটা সই হতে পারে।

রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির, কক্সবাজার

একই দিন মিয়ানমার সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খুব তাড়াতাড়ি এই সমঝোতা স্মারক সই হবে এবং জাতিসংঘের সংস্থাগুলো কমিউনিটিভিত্তিক কর্মকাণ্ড ডিজাইন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বসবাসে সহযোগিতা করবে। কমিটিকে সহায়তা করবে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর চার লাখের মতো মানুষ কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে। এরমধ্যে গতবছর ২৫ আগস্টে রাখাইনে নতুন করে সেনাবাহিনীর দমন অভিযান শুরুর পর সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে এসেছে আরও সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা।

জাতিসংঘ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ওই অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ আখ্যা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রোহিঙ্গা সঙ্কটকে এশিয়ার এ অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় শরণার্থী সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে গত বছরের ২৩ নভেম্বর মিয়ানমারের সঙ্গে একটি সম্মতিপত্র সই করে বাংলাদেশ। এর ভিত্তিতে দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন এবং ১৬ জানুয়ারি ওই গ্রুপের প্রথম বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিভিন্ন বিষয় ঠিক করে ‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ স্বাক্ষরিত হয়। এরপর প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মিয়ানমার সরকারকে আট হাজারের মতো রোহিঙ্গার একটি তালিকা দেয়া হলেও এখনও কেউ রাখাইনে ফিরতে পারেনি।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের ওই চুক্তি স্বাক্ষরের পর জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানানো হয়। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সে সময় বলেছিলেনন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় ইউএনএইচসিআরকে সঙ্গে রাখা জরুরি ছিল বলে তিনি মনে করেন। এরপর গত ১৩ এপ্রিল সুইজারল্যান্ডের জেনিভায় এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে ইউএনএইচসিআর। এতে মিয়ানমারে ‘অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে’ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সংস্থাটির সহায়তার কথা বলা হয়।

এখন মিয়ানমারের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় ওই সমঝোতা স্মারকে সই হলে ইউএনএইচসিআর ও ইউএনডিপি রাখাইনে রোহিঙ্গা বসতিতে যাওয়ার সুযোগ পাবে বলে ইউএনএইচসিআরের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১