বিএনপির ভয়ের কারণ দেখছেন না কাদের; জরুরি কর্তব্য স্মরণ করালেন সৈয়দ ইব্রাহিম
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচনে না এসে বিএনপি যদি জ্বালাও পোড়াও করে, তবে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। আজ (বুধবার) নিজ নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় ঈদুল আজহার নামাজ আদায় শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
কবিরহাটের বাটইয়া ইউনিয়নের ওটারহাট ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন ওবায়দুল কাদের। এরপর তিনি স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে কথা বলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি যদি সন্ত্রাস-সহিংসতার আশ্রয় নেয়, তবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তা প্রতিহত করব এবং দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।’
ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, নির্বাচনে আসতে বিএনপির ভয় পাবার কিছু নেই। কারণ, সরকার নির্বাচন পরিচালনা করবে না। নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। কাজেই নির্বাচন নিয়ে বিএনপির শঙ্কার কোনো অবকাশ নেই।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম রেডিও তেহরানকে বলেন, দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা বর্তমান সময়ের জন্য জরুরি রাজনৈতিক কর্তব্য। এ সময় প্রতিহিংসার রাজনীতি কাম্য নয়।
তিনি ওবায়দুল কাদেরের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, বিশেষ করে আজকে পবিত্র ঈদুল আজহার তাৎপর্য মনে রেখে তিনি যেন নিজের মনে মানুষের জন্য ভালবাসা পুনরুদ্ধার করেন এবং বিএনপির বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকেন।
ওদিকে, আজ চট্টগ্রামের ঈদ জামাতে সম্প্রীতির আবাহনে এক কাতারে মিলেছিলেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। বুধবার সকাল পৌনে ৮টায় নগরীর জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ মাঠে কোরবানির ঈদের প্রধান জামাতে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে নানা শ্রেণি-পেশার হাজার হাজার মানুষ নামাজ পড়েন।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, বিএনপি নেতা মীর মো. নাছির উদ্দিন, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাৎ হোসেন ও সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু ও সোলায়মান আলম শেঠ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনীসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিরা সামনের সাড়িতে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
ঈদের নামাজ শেষে প্রধান দুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের কোলাকুলিও সবার নজর কাড়ে।সবাই পরস্পরের সঙ্গে আলিঙ্গনের মধ্যদিয়ে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।#
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/সোহেল আহম্মেদ/২২