সিপিবিসহ বামপন্থী দলের সঙ্গে ঐক্য গড়তে চাই: ওবায়দুল কাদের
-
সাম্যবাদী দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ওবায়দুল কাদের
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিসহ (সিপিবি) বামপন্থী দলের সঙ্গে ঐক্য গড়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরীক বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে এমন আগ্রহ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
সেতুমন্ত্রী বলেন, "আজকে একটি বিষয় ভালো লাগছে যে বামপন্থীরা এক সুরে কথা বলছেন। সেটি হচ্ছে সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে তাঁরা নেই। এই উচ্চারণ যাঁরা করেছেন, আসুন না আমরা মিনিমাম পয়েন্টে ম্যাক্সিমাম ইউনিটি গড়ে ফেলি, অসুবিধাটা কোথায়?"
ওবায়দুল কাদের বলেন, "কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বাধীন আটদলীয় জোটের অনেকের সঙ্গে আমরা একসঙ্গে ছাত্র রাজনীতি করেছি। তাঁদের আদর্শের প্রতি আমার কোনো অশ্রদ্ধা নেই। এখানে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু—এই প্রশ্নে আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই।"
ঐক্যের বিষয়ে তিনি বলেন, "আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, আমরাও জাতীয় ঐক্য চাই। আমরা জাতীয় ঐক্য চাই সাম্প্রদায়িক অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে। আমরা জাতীয় ঐক্য চাই স্বাধীনতার শত্রুদের বিরুদ্ধে। আমরা জাতীয় ঐক্য চাই নষ্ট রাজনীতির বিরুদ্ধে। আমরা জাতীয় ঐক্য চাই দুর্নীতি–সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। আমরা জাতীয় ঐক্য চাই মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তির সঙ্গে। এ দেশের জন্মের চেতনা নিয়েই আমরা জাতীয় ঐক্য চাই।"
নির্বাচন সামনে রেখে ছক করে নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করছে সরকার-বিএনপির এই অভিযোগের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, "ইতিহাসটা দেখুন। ফেরিতে প্লেট চুরির জন্য আমাদের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল কারা? কত মামলা নিয়ে আমরা নির্বাচনে গিয়েছি? আমাদের হাজার হাজার নেতা-কর্মী বাড়িছাড়া। সাধু সাজে কারা? কত মামলায় তারা আমাদের জর্জরিত করেছে?"
তিনি আরও বলেন, ‘অন্যায়ভাবে মামলা হোক, তা আমরা চাই না। এখন যে মামলা হয়েছে, পুলিশ বলছে, তারা আন্দোলনের নামে নাশকতার ছক আঁকছে, পুলিশের কাছে তথ্য আছে। পুলিশ বলছে, তারা ২০১৪ সালের মতো সন্ত্রাসী তৎপরতার পরিকল্পনা তৈরি করছে গোপনভাবে। তথ্য তো আমাদের কাছে না, জানবে পুলিশ, গোয়েন্দারা। এ ধরনের অভিযোগে পুলিশ যদি কারও বিরুদ্ধে মামলা করে, এটা কি হয়রানিমূলক মামলা হবে?’
সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়ার সভাপতিত্বে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে দলটির নেতারা বক্তব্য দেন।
এর আগে চলমান জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, নানামুখী আদর্শের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার ফসল শেষ পর্যন্ত বিএনপির ঘরেই যাবে। ফলে জনগণের কোনো লাভ এতে হবে না। আর সিপিবি জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে জনগণের সংগ্রামের ফসল বিএনপির ঘরে তুলতে দেবে না। সোমবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সিপিবির এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে “দুঃশাসন হঠাও,গণতন্ত্র বাঁচাও” এবং দ্বি-দলীয় মেরুকরণের বাইরে বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প গড়ে তোলার আহ্বানে আগামী ৫ অক্টোবর বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ ও লাল পতাকা মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সিপিবি নেতার বলেন, অতীতে স্বৈরশাসকরা নির্বাচন বিষয়টিকে প্রহসনে পরিণত করেছিল। নব্বই পরবর্তী সরকারগুলো অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করতে পারেনি। বর্তমান সরকার আরও এক ধাপ অগ্রসর হয়ে নির্বাচনকে 'ঐন্দ্রজালিক প্রহসনে' পরিণত করেছে। এ সংগ্রামের অংশ হিসেবে প্রয়োজনে সিপিবি নির্বাচনে যেতে পারে, আবার বয়কটও করতে পারে।#
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/বাবুল আখতার/৩