নির্বাচনে সবার সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান সিইসির, বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সহায়তায় বলপ্রয়োগ করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা।
আজ (রোববার) সকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ নির্দেশ দেন। এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরো বলেছেন, ‘নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থী যেন সমান সুযোগ পায় তা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসাররা যাতে নিরপেক্ষ থাকেন সে বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখতেও নির্বাহী ম্যাজেস্ট্রেটদের নির্দেশ দেন তিনি।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন ভবন অডিটরিয়ামে আজ সিলেট, বরিশাল ও চট্টগ্রামের ২৩০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ে কমিশনের ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে ব্রিফিং এ উপস্থিত ছিলেন ইসি সচিব এবং কমিশনারগণ।
তবে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে এখনো রাজনৈতিক দল ও ভোটারদের মধ্য সন্দেহ-শঙ্কা রয়েছে বলে রেডিও তেহরানের কাছে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট সংবাদ বিশ্লেষক ও কলামিস্ট মহিউদ্দীন আহমেদ।
এদিকে, বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রশাসন ও পুলিশের ‘দলবাজ’ কর্মকর্তাদের আবারো নির্বাচনী কর্মকাণ্ড থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেছেন, প্রশাসন ও পুলিশের বিতর্কিত ও দলবাজ কর্মকর্তারা জনসমর্থনহীন আওয়ামী লীগকে ফের ক্ষমতায় বসানোর জন্য নানা চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। প্রতিনিয়ত তারা গোপন বৈঠক করছে। গত ২০ নভেম্বর রাতে ঢাকার বেইলী রোডে অফিসার্স ক্লাবের এক গোপন মিটিং করেছে যেখানে প্রধানমন্ত্রীর সচিব সাজ্জাদুল হাসান, জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহমদ এবং নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি’র অভিযোগের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচনে পরাজয় বুঝতে পেরে তারা এখন প্রশাশন, পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনরে বিরুদ্ধে নানা বিষোদ্গার করছে।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, নির্বাচন কমিশন এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে পারেনি এবং পুলিশি গ্রেফতার নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। গতকাল রাজধানীতে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ আয়োজিত এক সেমিনারে তারা অভিমত ব্যক্ত করেছেনে, ইসির দুর্বল ভূমিকায় আগামী নির্বাচন ফ্রি হলেও ফেয়ার নাও হতে পারে। তাই আগামী নির্বাচন কেমন হবে তা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। ফেয়ার ইকেলশনের জন্য সরকারকেও এ চ্যালেঞ্জ নিতে হবে, কারণ আন্তর্জাতিক মহল তাকিয়ে আগামী নির্বাচনের দিকে। তারা বলেন, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন না হলে দেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। আন্তর্জাতিক মহল সহায়তার মুখ ফিরিয়ে নেবে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৫