‘আপিলে খালাস পেলেও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না খালেদা জিয়া’
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i66153-আপিলে_খালাস_পেলেও_নির্বাচনে_অংশ_নিতে_পারবেন_না_খালেদা_জিয়া’
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির দুই মামলায় আপিলে খালাস পেলেও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
নভেম্বর ২৭, ২০১৮ ১২:১৭ Asia/Dhaka
  • বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া
    বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির দুই মামলায় আপিলে খালাস পেলেও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। নির্বাচনে অংশ নিতে হলে খালেদা জিয়াকে মুক্তির পরও পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে বলেও জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।

মাহবুবে আলম বলেন, “বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ওয়াদুদ ভূঁইয়া, মো. মশিউর রহমান ও মো. আবদুল ওহাব দণ্ড স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছিলেন। আদালতে আমি বলেছিলাম, ফৌজদারি আদালত, বিশেষ করে ফৌজদারীরি আপিল আদালত অবশ্যই তাঁদের সাজা স্থগিত করতে পারেন। কিন্তু কনভিকশন বা তাঁকে যে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, সেটির স্থগিত নেই। বিশেষ করে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের ২(ঘ) উল্লেখ করে বলেছিলাম, সেই সমস্ত ব্যক্তি জাতীয় সংসদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না বা সংসদ সদস্য হতে পারবে না, যদি তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কারণে অন্যূন দুই বছরের জন্য সাজাপ্রাপ্ত হন এবং মুক্তিলাভের পর পাঁচ বছর সময় অতিবাহিত না হয়। যাঁরা দরখাস্ত করেছিলেন, তাঁরা সবাই দণ্ডপ্রাপ্ত। তাঁদের দণ্ড থেকে মুক্তি লাভ করেননি। তাঁদের পাঁচ বছর সময় অতিবাহিত হয়নি। এমতাবস্থায় যদি তাঁদের দণ্ড স্থগিত করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে দেয়া হয়, তা হবে আমাদের সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। কাজেই আদালত আমাদের আবেদন গ্রহণ করে তাঁদের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কোনো অবকাশ থাকবে না বলে আমি মনে করি।”

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম

খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য হবে কি না জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “অবশ্যই। এটি সাংবিধানিক বিধিবিধান। এখানে শর্ত হলো দুটি। তা হলো, তিনি যদি দণ্ডিত হন, তাহলে পারবেন না। এরই মধ্যে তিনি যদি তাঁর দণ্ড বা সাজা থেকে মুক্তিলাভ করেন, তাহলে তাঁর সাজা বাতিলের তারিখ থেকে পাঁচ বছর তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। কাজেই খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে দুটি প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। যেকোনো আদালত তাঁর রায় দিয়ে এই সাংবিধানিক প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করতে পারেন না।”

তিনি বলেন, “আমাদের আপিল বিভাগ কিংবা হাইকোর্ট বিভাগ সংবিধান দ্বারা তৈরি। তাদের সংবিধান দিয়ে চলতে হবে। কাজেই কোনো আদালত এটাকে অগ্রাহ্য করতে পারেন না।”

এর আগে, আজ  বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলম –এর  হাইকোর্ট বেঞ্চ  দুর্নীতির দায়ে বিচারিক আদালতের দেওয়া দণ্ড ও সাজা স্থগিত চেয়ে পাঁচ বিএনপি নেতার আবেদন খারিজ করেন। দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ওই পাঁচ বিএনপি নেতা হলেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী আমান উল্লা আমান,  ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ওয়াদুদ ভুঁইয়া ও আব্দুল ওহাব ও ব্যারিস্টার একেএম ফখরুল ইসলাম।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, নিম্ন আদালতে দুই বছরের বেশি দণ্ড হলে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। তবে আপিল বিভাগে দণ্ড স্থগিত ও বাতিল হলেই কেবল অংশ নিতে পারবেন।

আদালতের আদেশের পরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান  বলেন, ‘আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় পাঁচটি দরখাস্তের শুনানি হয়েছে। ওইসব দরখাস্তের মূল বিবেচ্য বিষয় ছিল সেনটেন্সড সাসপেন্ড করার। সেটা গত দুদিন শুনানি হয়েছে। আজকে আদালত আদেশ দিয়ে আবেদনগুলো খারিজ করেছেন।

এ রায়ের সুত্র ধরে আজ দুদকের আইনজীবী সাংবাদিকদের জানিয়েছেব, সর্বোচ্চ আদালত থেকে সম্পূর্ণ খালাস বা সাজা বাতিল না হলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

তিনি বলেন, “এছাড়াও আদালত অনেক পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন, মূল রায় পেলে হয়তো আমরা জানতে পারব। দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়ে সংসদ নির্বাচনে অ্যাটেন্ড করা এবং ক্ষমতায় যাওয়া আদালত এগুলো ডিসকারেজ করেছে। আদালত বলেছেন, দুর্নীতি এমন একটা ব্যাপার যে, এ বিষয়ে আমাদের সবার সজাগ থাকা উচিত। কাজেই কনভিকশন মাথায় নিয়ে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া সংবিধানের মূল স্পিরিটের পরিপন্থী। ফৌজদারী কার্যবিধির ৪২৬ ধারায় যাই থাকুক না কেন, সংবিধানের সবার ওপরে প্রযোজ্য।”

এই রায়ের আলোকে বেগম খালেদা জিয়ারও নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে খুরশিদ আলম খান স্পষ্ট করে বলেন, “একদম থাকছে না। একথা তো আমি আগেও বলেছি। উনি সম্পূর্ণ খালাস পেলে অথবা সেনটেন্সড বাতিল করে দিলে, তখন উনি পারবেন। আজকের আদেশে এটা আরও পরিষ্কার হল। এই আদেশটা সবার ওপরে বাইন্ডিং। সবার ওপরে প্রতিফলিত হবে এবং নির্বাচন কমিশনও এই আদেশের পর্যবেক্ষণের বাইরে কোনো আদেশ দিতে পারবে না।”

আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার খায়রুল আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্টে সাজা ও দণ্ড স্থগিতের আবেদন করার উদ্দেশ্য ছিল, যাতে তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। আদালত বলেছে, দুটি গ্রাউন্ডে এ আবেদন বিবেচনার যোগ্য নয়। একটি হল, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৬ ধারা অনুযায়ী সেনটেনস (সাজা) স্থগিত করা যায়, কিন্তু কিনভিকশন (দোষী সাব্যস্ত করা) স্থগিত করা যায় না। দ্বিতীয় গ্রাউন্ড হল- সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদে বলা আছে, সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্বাচন করতে পারবে না। কিন্তু এর আগেও আমরা ভারতসহ বিভিন্ন দেশের নজির দেখিয়েছি। যেখানে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল দায়ের করা হবে।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৭

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন