দুই বছরের দণ্ডিত ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না: আপিল বিভাগের আদেশ
-
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত
বাংলাদেশের আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবিরা সুলতানার দণ্ড স্থগিত করে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ স্থগিত রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ। সর্বোচ্চ আদালতের এই আদেশের ফলে সাবিরাসহ দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত অন্যদেরও এবারের নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ থাকল না।
আজ (রোববার) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের আপিল বেঞ্চ উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। দুই বছরের বেশি সাজাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে এর আগে অভিমত দিয়েছিল হাইকোর্ট। গত ২৭ নভেম্বর দেয়া সেই অভিমতে আরও বলা হয়, এমনকি, মামলা আপিল বিভাগে বিচারাধীন থাকলেও, একই আদেশ বলবত থাকবে।
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান সাবিরা সুলতানাকে নিম্ন আদালতের দেয়া ছয় বছরের সাজা ও দণ্ড বৃহস্পতিবার স্থগিত করেছিল হাইকোর্টের একটি একক বেঞ্চ। গতকাল শনিবার চেম্বার আদালতের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে বিষয়টি শুনানির জন্য পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। আজ আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অপরপক্ষে শুনানি করেন এজে মোহাম্মদ আলী। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান ও এবিএম বায়েজিদ।
আদেশের পর আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, এই আদেশের ফলে যশোরের বিএনপি প্রার্থী সাবিরা সুলতানা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
সাবিরার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “অ্যাটর্নি জেনারেল গতকাল অস্বাভাবিকভাবে চেম্বার আদালত বসিয়ে হাইকোর্টের আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ নিয়েছেন। আজকে আপিল বিভাগ সেই স্থগিতাদেশই চলমান রেখেছেন।”
তিনি বলেন, “একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের অযোগ্য ঘোষণার জন্য সরকার এই আইনগত কৌশল নিয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”
এই আদেশের বিরুদ্ধে আইনগত প্রতিকার পাওয়ার কোনো সুযোগ আছে কি না- জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
গত ২৯ নভেম্বর জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে ঝিকরগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান সাবিরা সুলতানা মুন্নীকে বিচারিক আদালতের দেয়া সাজা ও দণ্ড স্থগিত করে বিচারপতি মোহাম্মদ রইস উদ্দিনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশ দেন।
আদালত থেকে বেরিয়ে মুন্নীর আইনজীবী জানান, এর ফলে তার নির্বাচন করতে আর কোনো বাধা নেই।
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের মামলায় চলতি বছর ১২ জুলাই মুন্নীকে দুটি ধারায় তিন বছর করে ছয় বছরের সাজা দেয় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন