গোলাম মাওলা রনিসহ আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন যাঁরা
-
নির্বাচন কমিশনে গোলাম মাওলা রনি
বাংলাদেশের আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম মাওলা রনি তার প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর না থাকায় তা জমা দেয়ার পর বাতিল হয়ে গেলেও আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়া এই রাজনীতিবিদ।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে নির্বাচন ভবনের ১১তলায় নির্বাচন কমিশনে রনির আপিলের শুনানি শেষে তার পক্ষে এ সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। এরপর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের আচরণে আমি সন্তুষ্ট। তাদের প্রতিটি জিনিসই আমার পছন্দ হয়েছে। শুধু আমিই নয়; আজকে যারা এসেছে তারা সবাই সন্তুষ্ট ইসির প্রতি।”
তবে এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আমার আসন থেকে সিইসির ভাগিনা নির্বাচন করেছে। এটা নিয়ে ভোটারদের মনে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন সিইসির ভাগিনা যেহেতু এ আসনে তাহলে কোনো ভোটে হবে না।”
এর আগে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের নবাব মো. শামছুল হুদার আপিল শুনানি দিয়ে শুরু হয়। আপিলেও তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। এরপর দুই নম্বরেই ছিল বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বগুড়া-৭ আসনে দলের মনোনীত বিকল্প প্রার্থী মোরশেদ মিল্টনের আপিলের শুনানি। শুনানি শেষে তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। এ সময় ঢাকা-২০ আসনের তমিজ উদ্দিনও প্রার্থিতা ফিরে পান।
বগুড়া-৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী মিল্টন মোর্শেদের আপিল শুনানি শেষে তাকে প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেওয়া হয়। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ না করার কারণ দেখিয়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল।
একই কারণে বাদ পড়া ঢাকা-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক, জামালপুর-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম এবং ঢাকা-২০ আসনের প্রার্থী তমিজ উদ্দিন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।
এছাড়া, কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. আখতারুজ্জামান রঞ্জন, ঝিনাইদহ-২ আসনে মো. আবদুল মজিদ, পটুয়াখালী-৩ আসনে মোহাম্মদ শাহজাহান, পটুয়াখালী-১ আসনের মো. সুমন সন্যামত, মাদারীপুর-১ আসনের জহিরুল ইসলাম মিন্টু, সিলেট-৩ আসনের আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীও আপিল করে ভোটের ময়দানে লড়াইয়ের যোগ্য হয়েছেন। একই সঙ্গে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন জয়পুরহাট-১-এর মো. ফজলুর রহমান ও মানিকগঞ্জ-২ আসনে মো. আবিদুর রহমান খান, গাজীপুর-২ আসনে মো. জয়নাল আবেদিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে জেসমিন নূর বেবী, রংপুর-৪ আসনে মোস্তফা সেলিম ও খুলনা-৬ আসনে এস এম শফিকুল আলমের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
আপিল করে ভোটের লড়াইয়ে ফিরতে পেরেছেন হবিগঞ্জ-১ আসনের জোবায়ের আহমেদ, ময়মনসিংহ-৭ আসনের মো. জয়নাল আবেদিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের আবদুল্লাহ আল হেলাল ও ময়মনসিংহ-২ আসনের মোহাম্মদ আবুবকর ছিদ্দিক।
৫০টি আপিলের শুনানি শেষে দুপুর ১২টার দিকে নির্বাচন কমিশন ১৫ মিনিটের বিরতিতে যায়। পরে আবার আপিলের শুনানি শুরু হয়।
এরপর আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পান শেরপুর-২ আসনের এ কে এম মুখলেছুর রহমান, হবিগঞ্জ-৪ আসনের মৌলানা মুহাম্মদ ছোলাইমান খান রব্বানী, নাটোর-৪ আসনের মো. আলাউদ্দিন মৃধা, বরিশাল-২ আসনের মো. আনিচুজ্জামান।
আপিলেও অবৈধ যাঁদের মনোনয়নপত্র
নির্বাচন কমিশন ভবনের এজলাসে আপিল শুনানিতে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে বেশ কিছুর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র। চট্টগ্রাম-৫ বিএনপির প্রার্থী মীর মোহাম্মদ নাসিরের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। মীর নাসিরকে দুদকের মামলায় ১০ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত উল্লেখ করে মনোনয়ন বাতিল করেছিল রিটার্নিং কর্মকর্তা।
এছাড়া যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তাঁরা হলেন—খাগড়াছড়ি আসনে আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া; ঝিনাইদহ-১ মো. আবদুল ওয়াহাব; সাতক্ষীরা-২ মো. আফসার আলী; চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ মো. তৈয়ব আলী; মাদারীপুর-৩ মোহাম্মদ আবদুল খালেক; দিনাজপুর-২ মোকারম হোসেন; দিনাজপুর-৩ সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম; দিনাজপুর-১ মো. পারভেজ হোসেন; ঠাকুরগাঁও-৩ এস এম খলিলুর রহমান; পাবনা-৩ মো. হাসাদুল ইসলাম; ফেনী-১ মিজানুর রহমান; কিশোরগঞ্জ-৩ ড. মিজানুল হক; ময়মনসিংহ-৪ আবু সাঈদ মহিউদ্দিন; নেত্রকোনা-১ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম; খুলনা-২ এস এম এরশাদুজ্জামান; নাটোর-১ বীরেন্দ্রনাথ সাহা; ঢাকা-১ মো. আইয়ুব খান; বগুড়া-৩ মো. আবদুল মুহিত; রাঙামাটি অমর কুমার দে; বগুড়া-৪ মো. আশরাফুল হোসেন (হিরু আলম); হবিগঞ্জ-২ মো. জাকির হোসেন; ঢাকা-১৪ সাইফুদ্দিন আহমেদ ও সাতক্ষীরা-১ এ এম মুজিবর রহমান।
নির্বাচন কমিশনের পুনঃতফসিল অনুযায়ী ৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। গত ২৯ নভেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। এরপর গত রোববার মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়। এদিন নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য জমা দেওয়া তিন হাজার ৬৫ মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৭৮৬টি বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। যাদের মধ্যে বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দলের অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীও রয়েছেন।
গত সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত আপিল গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন। তিন দিনে ৫৪৩ জন আপিল করেছেন। প্রথম দিনে ৮৪, দ্বিতীয় দিনে ২৩৭ ও তৃতীয় দিনে ২২২টি আবেদন নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা পড়ে।
আজ ১ থেকে ১৬০ পর্যন্ত ক্রমিক নম্বরের আবেদন শুনানি হবে। শুক্রবার ১৬১ থেকে ৩১০ পর্যন্ত এবং শনিবার ৩১১ ক্রমিক নম্বর থেকে ৫৪৩ পর্যন্ত আবেদনের আপিল শুনানি গ্রহণ করবে কমিশন।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৭
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন