দুটো ঘটনা আমাদের অত্যন্ত দুঃখ দিয়েছে: সিইসি
-
কেএম নূরুল হুদা
বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা বলেছেন, নির্বাচনী প্রচারণার প্রথমদিনেই সহিংসতা ও হামলার ঘটনায় বিশেষ করে ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের গাড়িতে হামলায় ঘটনায় আমরা বিব্রত। এ ধরনের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত।
আজ (বুধবার) সকালে নির্বাচন কমিশন ভবন মিলনায়তনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের তিনদিনব্যাপী ব্রিফিংয়ের শেষ দিনে তিনি এ কথা বলেন।
সিইসি আরও বলেন, ‘গতকাল মঙ্গলবার আমরা আনন্দের সঙ্গে বলেছিলাম দেশে নির্বাচনের হাওয়া বইছে। দেশে নির্বাচনের পরিবেশ অত্যান্ত সুন্দর রয়েছে। কিন্তু গতকাল দুটো অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। নোয়াখালীতে যুবলীগ নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। আর ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা অনাকাঙ্খিত। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশন অত্যান্ত বিব্রত।’
কেএম নুরুল হুদা বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা, কর্মী, প্রার্থী, ভক্ত, সকলের প্রতি অনুরোধ করতে চাই—আপনারা ধৈর্যশীল আচরণ করবেন। নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলবেন, কারও নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবেন না। একে অন্যের গণতান্ত্রিক অধিকার, মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাবেন। যেকোনো উত্তেজনাকর, উদ্বেগজনক নির্বাচন পরিপন্থী ও অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যাবলি পরিহার করবেন এবং নিজেরাই তার প্রতিহত করবেন।’
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের সচেষ্ট থাকার নির্দেশনা দিয়ে সিইসি বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। মানুষকে আশ্বস্ত করতে হবে নির্বাচন সহিংসতার জায়গা নয়। নির্বাচন মানুষের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের জায়গা। ধৈর্য ও একে অন্যের প্রতি সম্মান দেখিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করতে ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশ দেন সিইসি।
সিইসি বলেন, একটা মানুষের জীবন সব নির্বাচনের চেয়ে অনেক মূল্যবান। ৩০০ আসনের নির্বাচনের চেয়ে মানুষের জীবন মূল্যবান। এই সহিংসতা ও জীবনহানি কাম্য হতে পারে না।
এসময় তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান ও অনুরোধ রাখেন যেনও কেউ কারো প্রচার প্রচারণায় প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করবেন না। সবাই সহনশীলতা বজায় রাখবেন।
এর আগে একই সভায় সিইসি বলেছিলেন, “এটা বলার এবং বোঝার অপেক্ষা রাখে না যে ইতোমধ্যেই নির্বাচনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। শুধু আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে যে এই পরিবেশ যেন উত্তপ্ত না হয়। উত্তপ্ত হয়ে নির্বাচনী পরিবেশ যেন ব্যাহত না হয়, ব্যাঘাত না ঘটে।”
প্রধান নির্বাচন কমিশনার পরিবেশ শান্ত রাখার আহ্বান জানালেও গতকাল দেশের ১৮ জেলায় হামলা, ভাঙচুর ও গুলির ঘটনা ঘটেছে। আক্রান্ত হয়েছে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহর। হামলা হয়েছে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ ও ড. আবদুল মইন খানের প্রচার মিছিলেও। কোথাও কোথাও বিরোধী জোটের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের কর্মীদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নোয়াখালী সদর আসনে দুই পক্ষের সংঘর্ষে যুবলীগ নেতা নিহত হয়েছেন। ফরিদপুরে নির্বাচন নিয়ে বাকবিতণ্ডার জের ধরে হামলায় নিহত হয়েছে এক আওয়ামী লীগ নেতা।#
পার্সটুডে/এআর/১৩