অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্য দিয়ে চলছে জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণা
বাংলাদেশের আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থী ও তাদের কর্মী সমর্থকরা। পোস্টারিং ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারণার পাশাপাশি চলছে পথসভা-সমাবেশ। জাতীয় উন্নয়নসহ স্থানীয় সমস্যা ও সম্ভাবনার নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে যাচ্ছেন ভোটারদের কাছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে এ প্রচার প্রচারণা।
আসন্ন নির্বাচন নানা কারণেই জন্ম দিচ্ছে নানা ঘটনার। প্রথম দিকে প্রচার প্রচারণায় বাধা দেয়া, হামলা, গ্রেফতারের অভিযোগ ছিল বিরোধীপক্ষের দিক থেকে। এখন হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলছেন ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরাও। রাজধানীসহ সারাদেশেই ঘটছে হামলা মামলার ঘটনা। নির্বাচন কমিশন ও রিটানিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রতিদিন আসছে নানা অভিযোগ।
সারাদেশের মতো তার নির্বাচনি এলাকাতেও প্রচারণায় বাধা পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ঢাকা-১১ আসনে বিএনপির প্রার্থী শামীম আরা বেগম। তিনি জানান, নির্বাচনের পরিবেশ এখনও সৃষ্টি হয়নি। জনসংযোগের সময় তার তিন কর্মীতে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। সব সময় সবাই আতঙ্কে আছেন। কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হচ্ছে। প্রচারণার সময় ছবি তুলে নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেয়া হচ্ছে। প্রচারণায় নামতে নিষেধ করা হচ্ছে।
এদিকে, আলোচনা সভা, মতবিনিময়, লিফলেট বিতরণসহ নানাভাবে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। ঢাকা-১৫ আসনে দলটির প্রার্থী কামাল আহমেদ মজুমদার নেতাকর্মীদের নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত প্রচারণায় আছেন। এলাকায় মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ মোকাবেলার পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ তুলে ধরে ভোট চাইছেন। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে বর্তমান সরকারের ধারাবাহিতার গুরুত্বও তুলে ধরছেন তিনি।
ঢাকা-৬ আসনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষের প্রার্থী সুব্রত চৌধুরী আর মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টি নেতা কাজী ফিরোজ রশিদ। দিনভর বিভিন্ন এলাকায় কর্মী সমর্থকদের নিয়ে জনসংযোগ করেন তারা। এ সময়, লাঙ্গল মার্কায় ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে আবারও ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানান কাজী ফিরোজ রশিদ।
এদিকে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পটুয়াখালী-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী গোলাম মাওলা রনির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ মামলায় রনি ছাড়াও আরো ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে, যশোর-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী, জামায়াত নেতা আবু সাঈদ মোহাম্মদ শাহাদৎ হুসাইনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নাশকতার মামলায় ঝিকরগাছার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
অন্যদিকে, প্রাণনাশের হুমকিসহ উড়োচিঠি দেয়া হয়েছে বেশ কয়েকজন রির্টানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসককে। ডাকযোগে আসা এমন চিঠি পেয়েছেন ফরিদপুর, বাগেরহাট, মাদারীপুর ও নোয়াখালীসহ বেশ কয়েকজন জেলা প্রশাসক। নির্বাচনের কয়েকদিন আগে এমন হুমকির বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।#
পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/২১
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন