চা-চক্রের আনন্দ আয়োজন সামাজিক পাপ: রিজভী
-
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী
বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চা চক্রের সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, নির্বাচন পরবর্তী চা-চক্রে শেখ হাসিনার সদাহাস্য চেহারা ও সরকারের আনুকুল্য পাওয়া উৎফুল্ল উচ্ছিষ্ট রাজনীতিবিদদের চেহারা দেখে মনে হয়েছিল তারা আনন্দে মাতোয়ারা। মহাভোট ডাকাতির পর অনুশোচনাহীন সরকারের চা-চক্রের এ আনন্দ আয়োজন দেখে মনে হয়েছে, এ আনন্দ একটি সামাজিক পাপ।
আজ (রোববার) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী।
বিএনপির এ নেতা বলেন, জনগণের সঙ্গে প্রতারণাকারী সরকারের জয়োল্লাসের চা-চক্রে দেশের গণতন্ত্রমনা, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী কোনো রাজনৈতিক দলই অংশগ্রহণ করেনি। যারা জনগণের ভোট লুট করেছে, তাদের সঙ্গে গণতন্ত্রপ্রেমী কোনো ব্যক্তি, দল, গোষ্ঠী- কেউই সেই লুটের আনন্দের পাপে অংশগ্রহণ করেনি। এটাই জনগণের বিজয়।
গণতন্ত্রহীনতায় বাংলাদেশের জনগণ এখন রাষ্ট্রদাসত্ব করছে দাবি করে তিনি বলেন, রাষ্ট্র এখন এক ব্যক্তি ও এক দলের কব্জায়। একদলীয় শাসনে রাষ্ট্র জনগণকে দাসে পরিণত করে। গণতন্ত্র মৃত্যু যন্ত্রণায় ধুকতে ধুকতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। বর্তমানে দেশে সেই দশা বিরাজমান।
রিজভী আরও বলেন, এক ব্যক্তির একদলীয় শাসন নিরাপদ করতেই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকানো হয়েছে। কোনো কারণ ছাড়াই হাজার হাজার মিথ্যা মামলায় বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মীকে জড়ানো হয়েছে। হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গায়েবি মামলায় এমন মানুষদের জড়ানো হয়েছে, যা শুধু অদ্ভুতই নয়, এটি নিষ্ঠুর তামাশা।
তিনি বলেন, মৃত মানুষ, পক্ষঘাতগ্রস্ত রোগী, প্রবাসীসহ এ ধরনের অসংখ্য হতদরিদ্র ও শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদেরকে আসামী করা হয়েছে। এরা নাকি রাষ্ট্রের চোখে অপরাধী। যে রাষ্ট্র বিবেকহীন, মনুষ্যত্বহীন ও নিষ্ঠুর রক্তপিপাসু, কেবলমাত্র সেই রাষ্ট্রেই উল্লিখিত ব্যক্তিদের অপরাধী বানানো হয়। সুতরাং সেই অবৈধ সরকারের পতনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করা ন্যায়সঙ্গত।#
পার্সটুডে/শামস মন্ডল/গাজী আবদুর রশীদ/৩